নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুখ্যাত রাজাকার হয়েও ধরাছোয়ার বাইরে ছিলেন আবদুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসাকে (৬০)। স্বাধীনতার এতো বছর পার হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে প্রায় এক বছর আগে ২৭ জুলাই রাজশাহীর সার্কিট হাউসে মুসার অপরাধের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

পুঠিয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁকে রাজশাহীর আমলি আদালতে (২) হাজির করে পুঠিয়া থানা পুলিশ।
পরে আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার কারাগারে পাঠনোর নির্দেশ দেন মুসাকে।
এর আগে গত রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের হাজি আব্বাস উদ্দিনের ছেলে মুসাকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে পুলিশ।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, তার নামে থানায় কোনো মামলা নেই। তাকে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নয়, জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ৬ নভেম্বর পুঠিয়ার তাড়াশ এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে জাহিদের বাড়িতে কয়েকজন মিলে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাদেকুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের দুই হাতের কবজি উড়ে যায়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করে পুঠিয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, তাড়াসে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় আব্দুস সালাম মুসাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকুল চারঘাট থানা এলাকার ইয়াকুব আলী শেখের ছেলে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
মুসার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তার বিুরদ্ধে দু’দফা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সরেজমিন তদন্ত করেন আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা।
পুঠিয়ার বাঁশবাড়িয়া, পশ্চিমভাগ এবং গোটিয়া গ্রামে আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ তদন্ত করে সংস্থাটি। শুধু তই নয়, মুসার হাতে নিহত পশ্চিমভাগ গ্রামের শহিদ আবদুস সামাদের স্ত্রী রাফিয়া বেগমের দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত করা হয়।
গত ৯ জানুয়ারি সোমবার পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় ঘুরে ঘুরে তদন্ত করেন আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।তদন্ত দলের কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শক ফারুক হোসেন সেই দিন জানিয়েছিলেন, এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই রাজশাহীর সার্কিট হাউসে মুসার অপরাধের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তারপরে ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্ত করা হয়।
একই দিন পুঠিয়ার আটভাগ, ধোকরাকুল, পশ্চিমভাগ, বাঁশবাড়িয়া ও গোটিয়া গ্রামে পরিদর্শন করে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মুসার হাতে নিহত বাঙালি ও আদিবাসীদের স্বজনরা। তদন্ত দলের সহকারী তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেছিলেন, স্থানীয় ভুক্তভোগি পরিবারগুলোর কাছে একাত্তরের ঘটনার বিবরণ শুনে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, মুসা একজন যুদ্ধাপরাধী এবং মানুষ হত্যাকারী। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, একাত্তর সালে বাঙালি ও আদিবাসী হত্যা ও লুটপাটের পরে ভারতে পালিয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হলে মুসা রাজাকার আবার দেশে ফিরে আসে।
স/আ









