পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
চলতি শীত মৌসুমে রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই পেঁয়াজের চারা নিয়ে মাঠে মাঠে পিঁয়াজ রোপণ করছেন তারা।

উপজেলার পুঠিয়া, ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই কৃষকেরা সারিবদ্ধভাবে প্রতিটি লাইনে পেঁয়াজের চারা হাতে নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন পিয়াজের চারাগাছ।

অন্যদিকে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা গেল চাষীদের ভিন্নরূপে পিয়াজ রোপণ করতে, তারা রীতিমতো সকল কৃষক ও চাষীদের আনন্দের পাশাপাশি উৎসাহিত করতে কখনো খালি গলায় গান, আবার কখনো মাইক বাজিয়ে গানের তালে পেঁয়াজ রোপন এবং মাঝেমধ্যে নাচতেও দেখা যায়।
কৃষকরা বলেন তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজে আসতে চায় না সাধারণ কৃষক। তবুও পারিবারিক আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে আমাদের কাজ করতে হয়। কাদা, মাটি, পানি, কাচি নিয়ে আমাদের কাজ।’
এবিষয়ে চাষীদের গ্রুপ প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক বলেন- আমার গ্রুপে ১৪ জন কর্মী আছে আমরা প্রতিদিনে দুই বিঘা করে পেঁয়াজ রোপণ করে থাকি এবছর প্রায়ই ২৫০ বিঘা পেঁয়াজ রোপন করেছি।

একদিকে যেমন পিঁয়াজ রুপন হচ্ছে ঠিক অন্যদিকে তেমনি জমি থেকে পিয়াজ উত্তোলন করছেন চাষিরা, দেশি ও বিদেশী বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ হয় পুঠিয়া উপজেলা জুড়ে শীতের মৌসুমে।
গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ রুপন করে বিঘাতে দেড়শ মন হারে পেঁয়াজ পেয়ে খুশি বানেশ্বর ইউনিয়নের চাষীরা, সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বানেশ্বর ইউনিয়নের শিপপুরে মোতালেব হোসেন, ৪ বিঘা, মোঃ মুনসুর আলী ২ বিঘা ও মোহাম্মদ আশরাফ আলী ১ বিঘা সহ আরো অনেক কৃষক, পুঠিয়া কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা খাতের আওতায় ১২৫০ জন কৃষক (N 53) জাতের পেঁয়াজ রুপন করেছিল।
কৃষকরা বলছেন মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের থেকে এই পিঁয়াজ চাষ করে আমরা অধিক লাভবান হচ্ছি, আমরা এখন উত্তোলন করছে এক একটি পেঁয়াজের ওজন আড়াইশো গ্রাম, ৪ থেকে পাঁচটিতে হয় ১ কেজি।
চাষী মোঃ মুনসুর আলী বলেন আমার ১ বিঘা জমিতে আমি ১০০ মন পিঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রয় করেছি প্রতি মনে দাম পেয়েছি ১৭০০ টাকা, আরো ৫০ মনের মতো পিয়াজ উত্তোলন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘এবার শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে। চলতি বছর উপজেলায় ৪১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ হয়েছে। আমরা ৩৩০ জন কৃষকে পেঁয়াজের চারা রোপনের জন্য প্রণোদনা দিয়েছি। বিনা মূল্যে প্রান্তিক চাষিদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করেছি।









