সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ড. ক্যামেলিয়ার ব্যাখ্যায় উঠে আসে, যে কারণে পশ্চিমা বিশ্ব কৌশলগতভাবে পরিবারকাঠামোকে ভেঙে দিতে চায়। এর পেছনে আছে দুটি প্রধান কারণ—
১. শিক্ষামূলক ভূমিকা : তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে পরিবার সব সময় পরিচয় রক্ষা ও দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ অতীতে আলজেরিয়া এবং বর্তমানে ফিলিস্তিনে পরিবারের এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরিবারই ছিল শিশুদের মধ্যে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনাবোধ জাগ্রত করার প্রধান মাধ্যম।
দ্বিতীয় ভাগে তিনি দাবি করেন, আধুনিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠানের শিকড় উপড়ে ফেলতে মূলত দুটি সমান্তরাল পথ অনুসরণ করছে—
১. নতুন পরিবার গঠনে বাধা সৃষ্টি : আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিমালার মাধ্যমে বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনকে দিন দিন জটিল ও নিরুৎসাহ করে তোলা হচ্ছে, বিশেষ করে বাল্যবিবাহকে সীমাবদ্ধ করার নামে এমন কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা অনেক দেশে সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তৃতীয় ভাগে তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কিছু শব্দ ও পরিভাষা ব্যবহার করছে, যেগুলো শুনতে করুণাপূর্ণ ও মানবিক মনে হলেও বাস্তবে এগুলো সমাজ ও পরিবারের জন্য ধংসাত্মক, এসব শব্দের আড়ালে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করার সূক্ষ্ম কিন্তু সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। যেমন লিঙ্গ (বেহফবৎ): যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, ‘সিঙ্গল মাদার’ ইত্যাদি।
পঞ্চম ভাগে ড. ক্যামেলিয়া হেলমি তাঁর বক্তৃতার শেষাংশে এই সংকট মোকাবেলায় মুসলিম সমাজকে আরো সচেতন, সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান। তিনি তিনটি মূল করণীয় তুলে ধরেন—
১. সচেতনতা ও পর্যবেক্ষণ : মিডিয়া, শিক্ষা পাঠ্যক্রম ও আইনগুলোর মধ্যে যে ধ্বংসাত্মক এজেন্ডা লুকিয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং জনসাধারণের সামনে তাদের আসল রূপ উন্মোচন করা।
২. রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ : সরকারগুলোকে নারী ও শিশু সম্পর্কিত সন্দেহজনক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রস্তাব থেকে সরিয়ে আনতে রাজনৈতিক ও নাগরিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করা।
৩. সম্প্রদায়কে প্রস্তুত করা : এই সাংস্কৃতিক সংঘাতের ফলে যে সামাজিক ও পারিবারিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য মুসলিম সমাজকে মানসিক, নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করা। ড. হেলমির মতে, ‘পরিবার রক্ষা মানেই সভ্যতা রক্ষা। আর পরিবারকে রক্ষার লড়াইয়ে এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই।’
সূত্র : আল-ইত্তিহাদ ও আন্তর্জাতিক মুসলিম ইউনিয়নের ওয়েবসাইট
আরবি থেকে ভাষান্তর করেছেন ওমর বিন নাসির









