নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর পবার একটি স্কুলের একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার তিন মাস আগে আরেক শিক্ষককে যোগদানের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়াও আদলতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থেকে ওই শিক্ষককে বদলি করে পবার সিলিন্দা সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দুই দুটি নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন শিক্ষককে বদলির অবৈধ এ আদেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পবার প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে। তাঁরা এই বদলির আদেশ বাতিলেরও দাবি জানিয়েচেন।
সূত্র মতে, পবার সিলিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অবসরে যাবেন আগামী ১১ এপ্রিল। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে শিবগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামনুর নাহারকে বদলি করা হয় ওই স্কুলে। এরপর ওই আদেশের কপি পেয়ে গত ১৪ জানুয়ারি রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের উপপরিচালক আবুল খায়ের অবলিম্বে আদেশটি কার্যকর করার জন্য আরেকটি নির্দেশনা জারি করেন।
এ নির্দেশনার কপি পাঠানো হয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তবে ওই স্কুলটিতে কোনো শিক্ষকের পদ শূন্য না থাকায় এখনো যোগদান করাতে পারেননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের একটি সূত্র জানায়, আগামি ১১ এপ্রিল সিলিন্দা স্কুলের একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পরে Í চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে আসা শিক্ষক কামনুর নাহারকে যোগদান করানো হবে। অবসরে যাওয়ার আগেই আরেক শিক্ষককে যোগদানের ওই আদেশটিও অবৈধ বলেও জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।
সূত্র মতে, উচ্চ আদালতের দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী পুল ভিত্তিক ও প্যানেলভূক্ত শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় শিক্ষক বদলি করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে রাজশাহী জেলায় বদলি করা হয়েছে কামনুর নাহারকে। এখানেও বড় ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে।
এদিকে পবা উপজেলার বাইরে থেকে কোনো শিক্ষককে বদলি করে পবায় যোগদান করানো যাবে না বলে গত ৭ মার্চ স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিন একটি লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু সেই নির্দেশও অমান্য করে কামনুর নাহারকে শিবগঞ্জ থেকে বদলি করে পবায় যোগদানের পুরো বন্দবস্ত করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পবা উপজেলার একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে জানান, যেখানে এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় শিক্ষক বদলি স্থগিত আছে, সেখানে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় শিক্ষক বদলি করা হয় কিভাবে? এছাড়াও যে স্কুলটিতে বদলি করা হয়েছে সেখানকার একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার আগেই কামনুর নাহার নামের ওই শিক্ষকের বদলির নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এটিও সম্পূর্ণ অবৈধ নির্দেশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার রাজশাহী আঞ্চলিক প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের উপপরিচালক আবুল খায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘অবৈধভাবে একের পর এক বিভিন্ন উপজেলা থেকে শিক্ষক বদলি করে এনে পবায় যোগদান করানো হচ্ছে। এতে করে পবার স্কুলগুলোতে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে এখানে শিক্ষকের পদ শূন্যতাও তেমন সৃষ্টি হচ্ছে না। আবার পদ শূন্যতা কম থাকায় বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হচ্ছে না। এই অবস্থায় বাইরে থেকে নতুন করে কোনো শিক্ষক বদলি করে পবায় যোগদান বন্ধ করার জন্য নির্দেশ জারি করেছি। এই নির্দেশের কপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।’









