নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর পবায় ঋণের দায়ে এবং খাওয়ার অভাবে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পারিলা ইউনিয়নের বামনশেখর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির সবার ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতারা হলেন, মিনারুল ইসলাম (৩০), স্বাধীনা বেগম (২৮), শিশু মিথিলা খাতুন ও মাহিম। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি মিনারুলের হাতে লিখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কৃষিকাজ করতেন।
এতে মিনারুল লিখেছেন, “আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম। এই কারণে যে, আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার ছেলে-মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋনের গায়ে আর খাওয়ার অভাবে। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভালো। কারো কাছে কিছুই চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে কারো কাছে ছোট হতে হবে না।আমার জন্য আমার বাবা অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।”
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ পাওয়া গেছে। মতিহার থানা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) কালাম পরভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আবদুল মালেক নামে একজন বলেন, মনিরুল ইসলাম কৃষি কাজ করেন। জানা মতে তার ঋণ রয়েছে। তারা মাটির ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে চারজন সদস্যই মারা গেছে। এরমধ্যে উত্তরের ঘরে মা ও মেয়ে, আর দক্ষিণের ঘরে ছেলে ও বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল।
রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
স.আর









