নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশুদ্ধ পানির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ— পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে রাজশাহী শহরে সরবরাহের জন্য চলমান প্রকল্পে বঞ্চিত হচ্ছে গোদাগাড়ীবাসী।
অন্যদিকে রাজশাহী ওয়াসা বলছে— চলমান সারফেস ওয়াটার প্রজেক্ট শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহী ও আশপাশের পৌরসভাগুলো শতভাগ বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। অংশ নেন অন্তত তিন শতাধিক স্থানীয় মানুষ।
এর আগে তারা একটি প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মানববন্ধনে “আমাদের পানি আমাদের অধিকার”, “গোদাগাড়ীকে বাদ দিয়ে ওয়াসার পানি যাবে না”— এমন শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
বক্তারা বলেন— পদ্মা নদীর পানি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শহরে সরবরাহ করা হলেও, উৎসস্থল গোদাগাড়ীই বঞ্চিত। টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন— গোদাগাড়ীর জন্য ন্যায্য পানি বরাদ্দ না দিলে রাজশাহী ওয়াসার পানি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। আগামীতে ওয়াসা ঘেরাও ও প্রশাসনিক দপ্তর অবরোধের কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট মুস্তারুজ্জামান লাভলু, সদস্য সচিব হযরত আলীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
অন্যদিকে রাজশাহী ওয়াসা জানিয়েছে— চলমান “রাজশাহী ওয়াসা সারফেস পানি শোধনাগার প্রকল্প” শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহী শহর ও নওহাটা, কাটাখালী পৌরসভার শতভাগ মানুষ বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসবে।
প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ীর সারাংপুর এলাকায় নির্মিত হচ্ছে এই বিশাল শোধনাগার। প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কিলোমিটার প্রধান পাইপলাইন, বুস্টার পাম্প স্টেশন ও আধুনিক পানিশোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
গোদাগাড়ীবাসী বলছেন— তাদের দাবি, পদ্মার পানি থেকে ন্যায্য অংশ আগে স্থানীয়দের দিতে হবে। তবে, রাজশাহী ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— প্রকল্পের কাজ চলমান, এবং সময়মতো শেষ হলে পুরো রাজশাহী অঞ্চলই বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসবে।









