নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘নীল নয়না’ রাউধা আতিফের বয়স ১৪ বয়স থেকে শুরু মডেলিং। মালদ্বীপের জাতীয় টেলিভিশনের প্রথমবারের মতো একটি ক্যাম্পেইনে অংশ নেন তিনি। সেই ক্যাম্পটি ছিলো পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প ব্যাগ ব্যবহারের জন্য সচেতনতামূলক।
এরপর থেকে শুরু হয় তার মডেলিং জীবনের। থেমে থাকতে হয়নি তাকে। ইন্টারনেটের যুগে ফেসবুক, টুইটারে ভাইরাল হয় তাঁর ছবি। শুধু তাই নয় তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন বিখ্যাত সাময়িকী ভোগ ইন্ডিয়ার প্রচ্ছদেও।
মালদ্বীপের নাগরিক রাওধা আতিফ ভোগ ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের মডেল ছিলেন। ভোগ ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের অক্টোবরের সংখ্যার প্রচ্ছদে অন্যান্য মডেলের সঙ্গে রাওদাও ছিলেন। নবম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অক্টোবরে প্রকাশিত হয় ভোগ ম্যাগাজিনের সংখ্যাটি। একটি অনলাইন এ তথ্য নেওয়া।

![]()
এর আগে রাওধা আতিফ (২০) মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আতিফা ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিদেশি কোটার ছাত্রী ছিল রাওদা। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই রুমে উঠেন তিনি। আতিফ ও মায়ের নাম আমিনা মহাসিমাত। বাড়ি মালদ্বীপে।
![]()
এর আগে রাওধা কলেজের মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নম্বর রুমে থাকতেন। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে দরজা ভেঙ্গে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। রাওদা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজশাহী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ইফতেখার আলম সংবাদ মাধ্যমে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে হোস্টেলে গিয়ে পুলিশ রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ দেখতে পায়।

রাউধার মেডিকেল কলেজে ভর্তির আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, মালদ্বীপের মালেতে তাঁর বাড়ি। বাবার নাম মোহাম্মদ আথিফ। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁর মা আমিনাথ মুহারমিমাথ একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা। রাউধা হিরিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ভিল্লা ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ভোগের সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘এই মেধাবী নারীরা বৈচিত্র্যের যোগ্য দূত’। ভোগ ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাউধা বলেছিলেন, ‘মডেলিং আমার কাছে পেশা নয়; শখই বেশি। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সাহায্য করা আমার কাছে সব সময়ের জন্য স্বপ্ন।’
ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ বলেন, আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তাঁদের রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা।
স/শ









