অর্থ ও বাণিজ্য

নিহতের পরিবার পাবে ১ লাখ অক্ষম ৫০ হাজার টাকা

নিউজ ডেস্ক৬ মার্চ ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত জেলে পরিবার পাবে ১ লাখ টাকা এবং স্থায়ীভাবে যারা অক্ষম হবেন, তাদের দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। আর্থিক ক্ষতিপূরণের এই বিধান রেখে জেলেদের প্রণোদনা প্রদান নীতিমালা-২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রয়োজনীয় সম্মতির জন্য খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ও স্থায়ীভাবে অক্ষম জেলেকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়ার স্থায়ী কোনো বিধান নেই। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর একটি প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের নিহত ও অক্ষম জেলেকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করে আসছে। আর্থিক এ সহায়তাকে প্রণোদনা নীতিমালার আওতায় আনতেই উল্লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক বলেন, জেলেদের প্রণোদনা প্রদান নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তিনি জানান, অধিদফতরের আওতাধীন ‘জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে নিহত ও স্থায়ীভাবে অক্ষম ৫৮৭ জনকে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

প্রতিজন ক্ষতিপূরণ বাবদ পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা করে। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭- এই পাঁচ অর্থবছরে এ আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক আরও বলেন, এ আর্থিক সহায়তার বিষয়টি স্থায়ী রূপ দিতেই মূলত ওই নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, জেলেদের প্রণোদনা প্রদান নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের আগে তাদের আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে মতামত চেয়েছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সে মতামতে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, নিহত জেলে পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং স্থায়ীভাবে অক্ষমকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ মতামত নিয়ে পুনরায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে নিহত জেলে পরিবারকে পুনরায় ১ লাখ টাকা এবং অক্ষমকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এরপর নতুনভাবে আবার সম্মতি চাওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

এদিকে জেলেদের প্রণোদনা প্রদানের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়, দেশের ভেতর মাছ আহরণকালে ঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও বজ পাতের কারণে এবং জলদস্যুদের হামলা, বাঘ, হাঙর, কুমিরসহ হিংস জলজ প্রাণীর আক্রমণে নিহত নিখোঁজ বা আর্থিকভাবে অক্ষম জেলেকে এ আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবিকা হ্রাস করা হবে।

জেলেদের প্রণোদনা নীতিমালার নীতিমালার আওতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে অবশ্য জেলেদের মৎস্য অধিদফতরের আওতায় নিবন্ধিত এবং জাতীয় পরিচয় পত্রধারী হতে হবে। এ ক্ষতিপূরণ পেতে মৎস্য আহরণকালে নিহত বা নিখোঁজ জেলের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার কাউন্সিলের প্রদত্ত মৃত্যুসনদ বা নিখোঁজ প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। এছাড়া স্থায়ীভাবে অক্ষমতার সপক্ষে আবেদনে মেডিকেল বোর্ডের সনদপত্র থাকতে হবে। সর্বশেষ শর্তে বলা হয়, নিখোঁজ বা নিহত বা অক্ষম হয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় উপজেলা মৎস্য অফিসে আবেদন করতে হবে।

জানা গেছে, নীতিমালা পাসের পর ক্ষতিপূরণ দিতে মৎস্য অধিদফতর বার্ষিক রাজস্ব বাজেটে অনুদান খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান রাখার কথা বলা হয়।

এই ক্ষতিপূরণ বিতরণের জন্য উপজেলা এবং উপজেলায় আর্থিক সহায়তা কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে মহাসচিব করে এ কমিটি গঠন করা হবে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন সিভিল সার্জন, জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা, জেলা সমবায় অফিসার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কর্তৃক দু’জন জেলে প্রতিনিধি। এ কমিটি উপজেলা কমিটির প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমোদিত তালিকা এবং অনুদানের চাহিদা মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠাবেন। এছাড়া উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্য সচিব হবেন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা। সদস্য হিসেবে থাকবেন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত জেলেদের দু’জন প্রতিনিধি। সরকারের এ কমিটি অনুদানের জন্য প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে কমিটির সুপারিশ ও কার্যবিবরণী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবে।

এ কমিটি অনুদানের জন্য প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শন করে কমিটির সুপারিশ ও কার্যবিবরণী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবে।

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়, আমিষ উৎপাদন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশে জেলে সম্প্রদায় সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণীর সদস্য।

মাছ ধরা ছাড়া তাদের জীবিকার বিকল্প কোনো উৎস নেই। এমনকি মাছ ধরার জাল ও নৌকা কেনার মতো অনেকের সামর্থ্য নেই। তারা মজুরের মতো মহাজনের নৌকা দিয়ে মাছ ধরে। মাছ আহরণ বন্ধকালীন অর্ধাহারে ও অনাহারে তাদের দিন কাটে। তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে মাছ ধরতে যেতে হয়। ফলে কখনও তারা ঝড় ও দুঘর্টনায় পড়ে প্রাণ হারায় বা নিখোঁজ হয়।