রাজশাহী

নিরবে চলা-ফেরা করতেন বোমায় কবজি উড়ে যাওয়া খালেক

নিউজ ডেস্ক৬ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্রামের একদম সাদা-মাটা ছেলে আব্দুল খালেক। তার চলা ফেরা ছিল প্রায় একা-একা। বাইরে নিজের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকতেন তিনি। কোনো প্রয়োজন হলেই তবে বাড়ির বাইরে বের হন।

 

  • আবার কাজ শেষে ঢুকে যেতেন ঘরে। মিশতেন চাচাতো ভাই লালনের সঙ্গে। যিনি হলেন জেএমবির অন্যতম সদস্য। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে পুঠিয়ার তাড়াশ এলাকার বোমা তৈরীর সময় বিস্ফোরণে দুই হাতের কবজি উড়ে যাওয়া আব্দুল খালেক প্রসঙ্গে এভাবেই মন্তব্য করেন স্থানীয়রা। 

 

স্থানীয় একটি সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, খালেক চারঘাটের এমএ হাদি ডিগ্রি কলেজের অনিয়মিত ছাত্র ছিলেন। তিনি ঠিক মত কলেজের যেতেন না। তিনি লিখাপড়ায় তেমন ভালো ছাত্র ছিলেন না। তিনি নিরব প্রকৃতির ছিলেন। কারো সঙ্গে তেমন মেলা-মেশা করতে না। আর বেশির ভাগ সময় তিনি বাড়ির দরজা বন্ধ করে থাকতেন।

 

সূত্রটি সিল্কসিটি নিউজকে আরো জানায়, তার বাবা আকবর শেখের বয়স প্রায় (৮০) বছর। তিনি তেমন কাজ করতে পারে না। আকবর শেখ তার নিজের বাড়িতে থাকেন না। তিনি বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি জমিতে বাড়ি করে থাকেন। আর মাঝে মধ্যে এখানে আসেন। আকবর শেখের ৬ ছেলের মধ্যে একজন বিদেশে থাকেন। মাঝে মধ্যে তিনি দেশে আসেন।

 

তার ঘর ফাঁকা থাকার সুবাদে ছোট ভাই আব্দুল খালেক থাকতেন। বিস্ফোরণ আহত আব্দুল খালেক তার ভাইয়ের সেই ঘরে থাকতেন। আর সেই বাড়িতে অনেক অপরিচিত লোকজনের আশা-যাওয়া ছিলো। তিনি সব সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতেন। তিনি কাউকে তার ঘরে প্রবেশ করতে দিনেত না।

 

পুলিশের একটি সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, আব্দুল খালেক তার চাচাতো ভাই জেএমবি সদস্য লালনের সঙ্গে বেশি বেড়াতেন। লালনকে গত ১১ জুন ৫টি হাত বোমা বিপুল পরিমাণ জিহাদি বইসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত লালনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সাথে সক্রিয়তার প্রমান রয়েছে। ৫টি ককটেল, কিছু জিহাদি বই, পোস্টার, হ্যান্ডবিল ও হাতে লেখা কাগজ পত্র উদ্ধার করা হয়।

 

  • এর আগে ২০০৬ সালে উক্ত লালন জেএমবির সদস্য হিসাবে র‌্যারের হাতে গ্রেফতার হয়। ওই সময় র‌্যাব সদস্যরা চারঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারা ভোগ করে কিছু দিন আগে সে বেরিয়ে আসে।

 

এর পর গত ১১ জুন তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুইটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়েছিলো।

 

  • এদিকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফনে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আব্দুল খালেক একজন আম ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে আম ব্যবসা করতেন। আবার পুরোনো মোটরসাইকেল কেনাবেচা করেন।

 

ওসি আরো বলেন, খালেকের বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এরই মধ্যে পুলিশ মাঠে নেমে গেছে।

 

এদিকে শনিবারের রাতের ঘটনায় চারঘাট থানায় দুইট মামলা হয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ও ওপরটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

 

অন্যদিকে খালেকের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৮টার দিকে পুঠিয়ার তাড়াশ এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে জাহিদের বাড়িতে কয়েকজন মিলে বোমা তৈরী করছিলো। এসময় তাদের বোমা বিস্ফোরণ হলে খালেকের দুই হাতের কবজি উড়ে যায়। তার বাম চোখও ক্ষতিগ্রস্থ হয় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে। এসময় বাকিরা আহত হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আবদুল খালেককে আটক করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।