আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি যে বিষয়টি জানতে চাই তা হচ্ছে এই যে আমার একটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। আমি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ৪,০০,০০০ টাকা অ্যাডভান্স নেয়েছি। সে দোকান ছেড়ে দিলে তাকে আমার এই টাকা ফেরত দিতে হবে। এখন এই টাকাপ্রাপ্তিতে আমি যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হই তা হলে জাকাত দিতে হবে কি না?
উত্তর
ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া মুশকিল।
কেননা, প্রথমত জানতে হবে, আপনি অ্যাডভান্সের টাকাটা কী হিসেবে নিয়েছেন?এক. যদি আপনি জামানত (সিকিউরিটি) হিসেবে নিয়ে থাকেন, তাহলে উক্ত টাকা আপনার কাছে আমানত। অনুরূপভাবে যদি বন্ধক হিসেবে নিয়ে থাকেন, তাহলেও এটি আমানত। আর আমানতের বস্তুতে হস্তক্ষেপ করা তথা খরচ করা জায়েজ নয়। সে হিসেবে ওই টাকা আপনার কাছে থাকলেও তা খরচ করতে পারবেন না এবং এর মালিকানা থাকবে ভাড়াটিয়ার।সুতরাং সিকিউরিটি মানির জাকাত প্রতিবছর ভাড়াটিয়া প্রদান করবে।দুই. কিন্তু আমরা সাধারণত দেখতে পাই, ভাড়াদাতা ওই টাকার ওপর হস্তক্ষেপ করেন- অর্থাৎ তিনি টাকাটা নিয়ে খরচ করে ফেলেন। যেমন- প্রশ্ন থেকে বোঝা যায়, আপনার বেলায়ও এটাই হয়েছে। সুতরাং এটিকে আমানত বলা যায় না।
তা ছাড়া আমানতের বস্তু আমানতগ্রহীতার কাছে কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে এবং এতে তার হাত না থাকলে তা মূল মালিককে ফেরত দিতে হয় না। অথচ ভাড়াটিয়া পরবর্তী সময়ে ওই টাকা সর্বাবস্থায় ফেরত পায়। সুতরাং এটিকে কোনোভাবে আমানত বলা যায় না।অনুরূপভাবে একে ঋণ মনে করারও সুযোগ নেই। কেননা, তখন চুক্তিটি বৈধ হচ্ছে না।কারণ ঋণের বিনিময়ে কারো থেকে উপকার অর্জন করা সুদ। যা নিঃসন্দেহে হারাম।তিন. তবে এ ক্ষেত্রে একে জায়েজ পদ্ধতির আওতাভুক্ত করার একটি সুরত আছে। আর তা হলো–দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া চুক্তি সম্পাদন। অর্থাৎ ভাড়া চুক্তি সম্পাদনের সময় প্রতি মাসের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে নেবে। তারপর সামনের মাসগুলোর ভাড়া অগ্রিম পরিশোধের নামে অ্যাডভান্স মানি ভাড়াদাতাকে দেওয়া হবে। এরপর প্রতি মাসে ভাড়াটিয়া নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে থাকবে। আর যে মাসে দোকান ছেড়ে ভাড়াটিয়া চলে যাবে তার কয়েক মাস আগে থেকে ভাড়াদাতার কাছে জমাকৃত অ্যাডভান্সের টাকা থেকে ভাড়া হিসেবে কেটে নেওয়া হবে। যদি কোনো অর্থ এরপরও বেঁচে যায়, তাহলে মালিক তা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে।
যদি এ সুরত অবলম্বন করা হয়, তাহলে ওই চুক্তি এবং অ্যাডভান্স হিসেবে ভাড়াটিয়া ভাড়াদাতাকে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করা জায়েয হবে। তখন মৌলিকভাবে উক্ত অ্যাডভান্সের টাকার মালিক হবে ভাড়াদাতা এবং ভাড়াটিয়ার কোনো মালিকানা বাকি থাকবে না। যেহেতু ভাড়াটিয়া ওই টাকার মালিক থাকছে না, তাই তার ওপর ওই টাকার জাকাত আবশ্যক হবে না। পক্ষান্তরে যেহেতু দোকান মালিক ওই টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে, তাই ওই টাকা খরচ করা তার জন্য জায়েজ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ওই টাকার জাকাতও দোকান মালিকের ওপর আবশ্যক হবে।