রাজশাহী

দুর্গাপুরে বোনকে স্বামীর ঘর ছাড়ানোর পর ভাইকে লোহার রড দিয়ে পেটালো বখাটে

নিউজ ডেস্ক১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বখাটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকা ছাড়ার পরেও রক্ষা হলো না সঙ্গিতার (২২)। শুধু এলকায় নয়, বিয়ের পরেও স্বামীর বাড়িও ছাড়তে হয় সঙ্গিতাকে বখাটে রনির কারণে। সঙ্গিতা দুর্গাপুর উপজেলার বাজুখলসী এলাকার কফিলউদ্দীনের মেয়ে। এরই মধ্যে বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় গতকাল বৃহস্পতিবার পিটিয়ে সঙ্গিতার ভাই জীবনকে (২৫) লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বখাটে রনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বর্তমানে জীবন গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

  • জীবনের বড় ভাই মেহেদী হাসান অভিযোগ করে জানান, রনির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বছর আটেক আগে কফিলউদ্দীন স্বপরিবারে নিয়ে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকার একটি বাসা ভাড়া করে থাকতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় মেয়ে সঙ্গিতাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। পরে একটা সন্তানও হয় সঙ্গিতার। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে ফের এলাকায় চলে যান কফিল উদ্দিন।

অন্যদিক একই এলাকার বখাটে আকবর আলীর ছেলে রনিও বিয়ে করে। কিন্তু তারপরেও সঙ্গিতাকে বিরক্ত করতে বখাটে রনি তার শ্বশুর বাড়ির আশে-পাশে মোড়ে আড্ডা দিতে থাকে। এতে সঙ্গিতার স্বামীর সন্দেহ হলে রনিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এনিয়ে সমস্যা আরো জটিল হয়। এর কয়েকদিন পরে সঙ্গিতাকে তার স্বামী বাবার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে সঙ্গিতা ছয় থেকে সাত মাস ধরে বাবার বাড়িতে আছেন।

  • এবার বখাটে রনি গত বুধবার বিকেল সঙ্গিতার বাবার বাড়িতে আসে তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এতে সঙ্গিতা আপত্তি জানালে কিছুক্ষণ পরে রনি পাশের আম বাগানে ঘোরা-ফেরা করতে থাকে। একটু পরে সঙ্গিতার ভাই জীবন এসে প্রতিবাদ করে রনিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর জীবন গিয়ে রনির বাবা মাকে বিষয়টি জানান।

গত বুধবার এ ঘটনায় থানা অভিযোগ করা হলে দুর্গাপুর থানার এসআই সালাম একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে জীবন ও সঙ্গিতার ভাই মেহদীকে বলেন, ‘এটা এলাকাভিত্তিক সমস্যা সেখানেই বিষয়টি মিমাংশা করার চেষ্ঠা করা হোক আগে। আপনারা বাড়িতে যান কোন সমস্য নেই।’

 

  • এ ঘটনার পরে গতকাল বৃহস্পতিবার দাওকান্দি পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসির পরীক্ষা দিতে নিয়ে যান জীবন তার এক শ্যালিকাকে। তাকে রেখে আসার সময়ে বখাটে রনি, তার সহযোগ পিন্টু, রানা, তাদের চাচাতো ভাইয়ের মিলে রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় আহত জীবনকে (২৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সঙ্গিতার বড় ভাই মেহদী হাসান মুঠোফোনে সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, ‘আমরর বোনের বিয়ে হওয়া প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর হবে। বখাটে রনি স্কুলপড়া অবস্থা থেকে সঙ্গিতাকে বিরক্ত করতো। এর আগে রনিকে ধরে তার বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনকে বলা হয়। তার পরেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয় না। এতে করে এলাকায় বসে আমরা কোন সমাধান করতে না পেরে রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় বোনের বিয়ে দেয় আমারা বন্ধুর সঙ্গে।’

  • তিনি আরো বলেন, রনিদের বংশে অনেক ছেলে আছে তাই তারা কিছু হলে মারতে লাঠি-সোটা নিয়ে চলে আসে। এই ঘটনার পরে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান সমসের আলীকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তারা প্রভাবশালী। আর বিষয়টা অনেক বড় তুমি থানায় জানাও। থানা গিয়ে বোন সঙ্গিতা নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। এর পরে এসআই সালাম বলেন, আপনারা চলে যান আমি কয়েকদিনের মধ্যে গিয়ে ব্যাবস্থ্য নিবো।’

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান সমসের আলী সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, আমি শুনেছি। এই নিয়ে রনির লোকজন মারধর করেছে জীবনকে। আগে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। আর গতকাল শুক্রবার মারাধরের ঘটনার পরে আমি জীবনকে রামেক হাসপাতালে আর রনির লোকজনকে সরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে দুর্গাপুর থানার (ওসি তদন্ত) কামরুজ্জামান সিল্কসিটিনিউকে বলেন, এ বিষেয়ে আমার জানা মতে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যাবস্থগ্রগণ করা হবে।

স/আর