নিজস্ব প্রতিবেদক দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানোর ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল, দুই ইউপি সদস্যসহ আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও ঝালুকা ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব মীর্জা। তবে পলাতক রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল।
এদিকে নির্যাতনের শিকার উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতনকে বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবারের লোকজন। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন।


দুর্গাপুর থানা পুলিশ সূত্র মতে, ছাগল চুরির অভিযোগে গাছের সঙ্গে দুই কিশোরকে বেধে মারপিটের ঘটনা বুধবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়। নির্যাতনের শিকার উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের কিশোর জার্জিস হোসেনের বাবা জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ঝালুকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব মীর্জাসহ ৮জনকে আসামি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৭ ফ্রেবুয়ারি) দিবাগত রাতে আন্দুয়া গ্রামের ক্যাচিনি ফকিরের ছেলে রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি হয়ে যায়। উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন নামের দুই কিশোর ওই ছাগলটি নিয়ে মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বাজারের নাইট গার্ডরা আটক করেন।

পরে ওই দুই কিশোরের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে আন্দুয়া গ্রামে খবর দিলে পরের দিন বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে আন্দুয়া গ্রামে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশেই গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। সালিশী বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়।
পরবর্তিতে তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হলে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ সময় কথিত ওই গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মন্ডল, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিব।
পরবর্তিতে ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ওই দুই কিশোরকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় দিনভর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
স/আর









