জাতীয়

দুই লাখ মানুষের চিকিৎসায় দুজন চিকিৎসক!

নিউজ ডেস্ক৬ এপ্রিল ২০১৮২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। এরফলে প্রায় দুই লাখ মানুষের এই উপজেলায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

৩১ শয্যা বিশিষ্ঠ এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৫ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। প্রশাসনিক অনুমোদন না পেলেও মৌখিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু এরপরও বাড়তি জনবল মেলেনি জানালেন  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোছা. হালিমা খানম।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অফিসার আব্দুস সাত্তার জানান, এখানে ১৫ টি মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও ১২ টিই দীর্ঘদিন ধরে শুন্য। আবার ৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১ জন ২ মাসের প্রশিক্ষণে বাহিরে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে ২ ডাক্তার দিয়ে চলছে এই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা। আবার তৃতীয় শ্রেণির ৫০টি পদের মধ্যে ১১ টি পদ শুন্য ও ৭ জন রয়েছেন প্রেষণে।

জানা গেছে, এ উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌর সভায় প্রায় ২ লাখ লোক বাস করেন। আর অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসাপাতালে রোগীর উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু সেই অনুপাতে চিকিৎসক একেবারেই অপ্রুতুল্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুইশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এছাড়াও  ইনডোরে  বিশ থেকে ২৫ জন রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে টিএইচওসহ বর্তমানে ২ জন চিকিৎসক রয়েছে। তাদের মধ্যে থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোছাঃ হালিমা খানমকে প্রায় সময়ই বিভিন্ন সভা সেমিনার ও সরকারি কাজে বাহিরে থাকতে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে উপজেলার অসহায় দরিদ্র মানুষ  চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময়ই আশানুরুপ সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মহিলা ওয়ার্ডের ২ নং বেডে ভর্তিকৃত ২৭ বছরের  খুশি খাতুন বলেন, তিনদিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু চিকিৎসকের দেখা পেয়েছি মাত্র একবার।

৮ নং বেডে ভর্তি ৬০ বছর বয়সী রমেছা খাতুন বলেন, তিনদিনে একবার ডাক্তার এসেছে, অন্য সময় নার্সরা এসে দেখছেন।

এবিষয়ে থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. হালিমা খানম জানান, মাত্র তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ২ মাসের প্রশিক্ষণে বাহিরে আছেন। ফলে দুজন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করলে এ অবস্থা আর থাকবে না।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: তাহাজ্জেল হোসেন বলেন, চিকিৎসক শুন্যতার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি স্বল্প সময়ে এই সংকট কেটে যাবে।