রাজশাহী

দীর্ঘদিনের খানা-খন্দ রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগে দুর্গাপুর উপজেলাবাসী

নিউজ ডেস্ক৩১ জানুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর:
দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় খানা খন্দকে পরিণত হয়েছে। এমনকি উপজেলার বেশ কিছু রাস্তা দেখে বোঝার উপায় নেই যে কোনটা পাকা আর কোনটা কাঁচা রাস্তা। আর এই কারনে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পাড়েছে ওই সকল রাস্তা গুলো। যার ফলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনাসহ নানান দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপুর  উপজেলার সদর থেকে বহরমপুর, চৌবাড়ীয়া হয়ে হোজা, মাড়িয়া হয়ে পালিবাজার, কানপাড়া বাজার হতে শুরু হয়ে দাউকান্দি বাজার, কানপাড়া বাজার থেকে গগণ বাড়ীয়া হয়ে চুনিয়াপাড়া, পালী বাজার হতে সাহাবাজপুর হয়ে কাশেমপুর বাজার, আলিয়াবাদ হয়ে পালশা, নান্দোপাড়া হয়ে কাঠালবাড়ীয়া, ওয়াজের মোড় হয়ে কাঠালবাড়ীয়া বাজার, আমগাছি মাহেন্দ্র হতে রহমান জুটমিল বায়পাস, পাইকড়তলী মোড় হতে পানানগর বাজার, ধরমপুর হয়ে তেবিলা বাজার, বাছেরের মোড় হয়ে নেংড়াতলা হয়ে কাঠালবাড়ীয়া, আমগ্রাম হতে কিশোরপুর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাগুলোর কাপেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় খানা-খন্দকে পরিণত হয়েছে।

 

এমনকি  রাস্তার দু ধারের মাটি সরে গিয়ে রাস্তাগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে এ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগের মাধ্যম নছিমন, করিমন, ব্যাটারি চালিত অটো, ভ্যান, ও মোটর সাইকেল আরোহীদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরমে। বিশেষ করে বিভিন্ন কাচাঁ ফসল নিয়ে হাটে বাজারে যেতে আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চাষিদের।
দুর্গাপুর উপজেলার হোজা গ্রামের মোস্তফা ও আব্দুল মতিন ও নরুন-নবী জানান, বিগত বিএনপির আমলে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছিলো। বর্তমান সরকারের এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা পর-পর দুইবার এমপি হওয়ারপরেও এই উপজেলায় তেমন একটা রাস্তার কাজ হয় নি। যার ফলে হাটে বাজারে ফসল বিক্রির জন্য নানান সমস্যয় পড়তে হয়।
তারা আরো জানান, বিভিন্ন সময় জরুরী রোগীদের ভাঙ্গা রাস্তার কারনে সময়মত হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারায় অনেক রোগীদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়।
দুর্গাপুর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের শ্যালো মেশিন চালিত ভুটভুটি গাড়ীর চালক শফিকুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, দীঘদিন থেকে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় তারা যাত্রী ও বিভিন্ন মালামাল সময়মত গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারেন না। এছাড়াও ভাংঙ্গাচুরা রাস্তার কারনে তাদেরমত বিভিন্ন গাড়ী চালকদের প্রায়দিন দুর্ঘটনায় শিকার হতে হয়।
উপজেলার গগণবাড়ীয়া ও দাওকান্দি গ্রামের কয়েকজন সচেতন ব্যক্তিরা জানান, উপজেলার প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে কিছু রাস্তা সংষ্কার করা হলেও ওইসকল সংষ্কারকৃত রাস্তা গুলোর কাজের মান তেমন একটা ভালো না হওয়ার কারনে সংষ্কারের কিছুদিন পরে পিচ উঠে খোয়া বের হয়ে গেছে। এছাড়াও এজিংয়ের ইট ভালো না হওয়ায় ও রাস্তার দুধারে ভালোভাবে মাটি না দেওয়ার কারনে রাস্তা গুলো নির্মান ও সংষ্কারের কিছুদিনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ছে।
এছাড়াও বিগত ৮-১০ বছর ধরে রাস্তা গুলো সংষ্কার না করায় আরো বেশি খানা খন্দকে পরিনত হয়েছে। ওই সকল রাস্তা অতি দ্রুত মেরামত না করলে আগামিতে সেগুলো সংষ্কারে জন্য সরকারে বড় আকারে অর্থ ব্যায় হবে বলে মনে করেন স্থানীয় জনসাধরণ। এলাকাবাসী জরুরী ভিত্তিতে বড় বড় খানা খন্দক ও ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা গুলো সংষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
তারা বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন হাতে নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি মধ্যআয়ের দেশের পরিনত হতে চলেছে। তাই আগামিতে একটি বছর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন দুর্গাপুর উপজেলাবাসী ।
স/শ