সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কারণ ইসলাম নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজন উপেক্ষা করে সব সম্পদ দান করে দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছে।

“ابدأ بنفسك فتصدق عليها، فإن فضل شيء فلأهلك، فإن فضل عن أهلك فلذي قرابةك”
‘তুমি প্রথমে নিজের উপর ব্যয় করো, অতঃপর পরিবারে, এরপর নিকটাত্মীয়ের উপর।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৯৭)
দাননীতিতে ভারসাম্যের অনন্য উদাহরণ
ইসলামে দান হলো ঈমানের প্রকাশ, দয়ালু অন্তরের পরিচয়, কিন্তু এরও একটি সীমা ও পরিপূর্ণতা রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ”
‘তোমার হাতকে নিজের গলায় বেঁধে রেখো না (অর্থাৎ অত্যন্ত কৃপণ হয়ো না), আবার একেবারে প্রসারিতও করো না (অর্থাৎ অপব্যয় করো না)।
বর্তমান যুগে ‘দেখনদারির দান বা সদকা’ দানের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে দিয়েছে। কেউ হয়তো সমাজে সম্মান পাওয়ার আশায় দান করছেন অথচ পরিবারের সদস্যরা ক্ষুধার্ত।
একটি ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টান্ত
হযরত আবু তালহা (রা.) ছিলেন মদিনার এক ধনী সাহাবী। যখন কোরআনের আয়াত নাজিল হলো-
“لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ”
‘তোমরা কখনো পূর্ণ ধার্মিকতা লাভ করবে না যতক্ষণ না তোমরা নিজেদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)
তিনি তখন নিজের প্রিয়তম বাগানটি সদকা করে দেন।
‘এটি তোমার আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করো।’
এখানেই বোঝা যায়, দান আল্লাহর পথে হলেও তার প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক জীবনদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে হৃদয় উজাড় করা দানের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে সুবিবেচনা, দায়িত্ববোধ ও সুপরিকল্পনার অনুপম সমন্বয়। যেখানে দান শুধুই একটি ইমোশন নয়, বরং একটি নীতিনিষ্ঠ, ভারসাম্যপূর্ণ কর্তব্য।
আজকের সমাজে যদি এই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানো যায়, তবে দান হবে সত্যিকারের দয়া, সদকা হবে কল্যাণের, আর সমাজ হবে করুণা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন।









