সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
থাইল্যান্ডে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রবল বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি উপচে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমণ বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী ব্যাংকক বাদে ১৯টি প্রদেশে তিন লাখ ৬৯ হাজার জনেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তারাদিত ও আয়ুথায়া সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত এলাকা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ত্রাণ দলগুলো খাদ্য ও সরঞ্জাম বিতরণ করছে এবং পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ মৌসুমি বৃষ্টি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
১৯টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টি উত্তরাঞ্চলে—উত্তারাদিত, ফিৎসানুলক, ফেচাবুন, সুখোথাই, ফিচিত ও নাখন সাওয়ান। ফিৎসানুলক, ফেচাবুন, ফিচিত ও নাখন সাওয়ানে বন্যার পানি অপরিবর্তিত থাকলেও উত্তারাদিত ও সুখোথাইয়ে পানি নামতে শুরু করেছে।
মধ্যাঞ্চলের সমভূমি এলাকায় আটটি প্রদেশে প্লাবন দেখা দিয়েছে—উথাই থানি, চাই নাট, সিং বুরি, আং থং, সুফান বুরি, আয়ুথায়া, পাঠুম থানি ও নাখন পাঠম।
পানি সাধারণত অপরিবর্তিত থাকলেও পাঠুম থানি ও উথাই থানিতে কিছুটা কমেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার প্রদেশ—চাইয়াফুম, উবন রাচাথানি, উদোন থানি ও ইয়াসোথন —বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলের একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ চাচোএংসাও, যেখানে বাং নাম প্রিয়ো জেলায় পানির স্তর বাড়ছে।
ব্যাংককের মেয়র চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, ২০১১ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা এবার হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে চাও ফ্রায়া নদীতে পানির প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে দুই হাজার ৪২১ ঘনমিটার, যা সেকেন্ডে তিন হাজার ৬০০ ঘনমিটার সীমার নিচে, এ সীমা অতিক্রম করলেই নদী উপচে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুগুনিয়ানি ইয়াভিনচান জানিয়েছেন, ক্রান্তীয় ঝড় মাতমো মঙ্গলবার ভোরে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে নিম্নচাপের ঘূর্ণি রূপে সক্রিয় হয়েছে, যা থাইল্যান্ডের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি আনবে।
সূত্র : ব্যাংকক পোস্ট









