রাজশাহী

পুকুর খননের দায়ে তানোরে তিনটি এ্যাসকোভেটর পোড়ালেন এসিল্যান্ড

নিউজ ডেস্ক১৩ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুকুরের জন্য মাটি খননের দায়ে তিনটি এ্যাসকোভেটর (মাটি খননের ড্রেজার গাড়ি) পুড়িয়ে দিয়েছেন তানোর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড। গতকাল সোমবার বেলা আড়ায়টার দিকে তানোরের তানদুড়িয়ে এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে। তবে অ্যাসকোভেটরের মালিকরা বলছেন, জেল-জরিমানা না করে তাদের গাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়ে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

পুকুর মালিক শাহজাহান আলী সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, ভাই বোন মৎস খামারের অধিনে একটি ৩০ বিঘার পুকুর খননের কাজ চলছিলো। এ কাজের জন্য তার এ্যাসকেভেটটি ভাড়া নিয়েছিলেন পুকুর মালিক।

 

শাহজাহান বলেন, পুকুরের প্রায় ৫০ শতাংশ খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমি কর্মকর্তা এসিলেন্ড সোমবার কয়েকজন পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে যান। এসময় একলোক আমাকে (শাহজাহান) খবর দেয়। আমি তখন ভূমি কর্মকর্তা এসিলেন্ডকে ফোন দিয়ে বলি আমার আপরাধ করলে আমাকে জেল-জরিমানা যা হয় আমি মাথা পেতে নিবো। তার পরেও তিনি কোন কথা না শুনে গাড়ীর ভেতরে থাকা ড্রাইভার ও হেলপারের (সুপারভাজার) কাপড় ও শীতের কম্বলের সঙ্গে গাড়ীর তেল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

শাহজাহান আলী আরো বলেন, ফোনে ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ডকে বলেছি, আপনি ২০ মিনিট অপেক্ষা করেন। আমি একটা মৃত ব্যক্তির জানাযায় আছি। তার পরেও তিনি (এসিল্যান্ড) বলেন, আপনি আসতে থাকেন গাড়ীতে আগুন জলবেই। আমি এসে দেখি আমার গাড়ী পুড়ে গেছে।

 

পুুকুর মালিক শাহজাহান আলী আরো বলেন, সিলিমপুর বিলের মধ্যে এলাকার ৩১জন কৃষকরে কাছ থেকে ৩০বিঘা জমি লীজ নিয়ে পুকুর খননের জন্য ভাড়া করে আনা ড্রেজার মেশিনটি’র চেন কাটা অবস্থায় পড়েছিল। ভ্রাম্যমান আদলত দেখে চালক পলিয়ে গেলে ওই মেশিনে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন এসিল্যান্ড।

 

খবর পেয়ে আমি একাধিকবার মোবাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে আগুন দিতে নিষেধ করে ঘটনাস্থলে আসতে থাকি। এসে দেখি ম্যাজিস্ট্রেট ভাড়া করে আনা প্রায় ৫৫ লাখ টাকা দামের মেশিন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে চলে গেছেন।

 

তিনি কান্না জনিতকন্ঠে আরো বলেন, ‘আমরা বেকার যুবক মৎস্য খামার করে স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করছি, আমাদের সম্পদ নষ্ট না করে আমাদের ভুলগুলো সুধরিয়ে দিয়ে, নিয়ম অনুযায়ী খামার করতে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন অপরাধ করলে আমি করেছি, মেশিন কি অপরাধ করলো?’

একই দিনে আরো দুটি এ্যাসকেভেটর মেশিন পুড়িয়ে দেওয়া হয় একই এলাকায়। এসব গাড়ীর প্রতিটির মূল্য অন্তত অর্ধকোটি টাকা বলে দাবি করেছেন গাড়ীর মালিকরা। যেসব গাড়ীর প্রতিটিই ঋণ-দেনা করে কিনেছিলেন মালিকরা। তবে গাড়ীগুলো পুড়িয়ে দেওয়ায় ওইসব মালিকদের এখন প্রায় পথে বসতে হবে।

 

এবিষয়ে তানোর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড নিলুফা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গাড়ী পুড়ানোর কোনো আইন আছে কিনা। এমন কথার উত্তরে তিনি সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, হ্যাঁ, আমরা গাড়ী পুড়ানোর ক্ষমতা রাখি। আমি সেদিন ভ্রামম্যাণ আদালত পরিচালনা করেছিলাম। তার আগে তাদের ব্যাটারি পুড়িয়ে সতর্ক করা হয়েছিলো। তারা আমাদের কথা শুনেনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা অভিযান চালালে তারা পালিয়ে যায়। আবার রাতের আধারে তারা মাটি খনন করে। ভ্রামম্যাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের গাড়িগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।’

 

‘এভাবে পুকুর খনন করতে থাকলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে অন্যদের ক্ষেত্রেও’-যোগ করেন এসিল্যান্ড।

 

স/আ