ছবিঘর

তবু আমাকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েছেন ইমরান

নিউজ ডেস্ক২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

কণ্ঠ ভারী ভারী শোনাচ্ছে কেন?

সারা দিন রোজা ছিলাম। মাত্র ইফতার করে বিশ্রাম নিচ্ছি।

আজ বাসায় কয়েকজন বন্ধুবান্ধব এসেছিল। ওদের জন্য নিজের হাতে ইফতারি বানিয়েছি। বুঝতেই পারছেন, কিছুটা ক্লান্ত।

‘জ্বীনের বাচ্চা’র দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন?

খুব ভালো।

শতভাগ পজিটিভ রিভিউ পাচ্ছি। এখন তো ভিউয়ের যুগ। সবাই বাণিজ্যিক কনটেন্ট নির্মাণ করতে চায়, অভিনেতারাও সেদিকে ঝোঁকেন। তবে ‘জ্বীনের বাচ্চা’ সেদিক থেকে একেবারে আলাদা।

আমরা একটু চিন্তায় ছিলাম দর্শক কিভাবে নেবে! তবে মুক্তির পর আমাদের সেই চিন্তা কেটে গেছে। বলতে পারেন, ফুরফুরে মেজাজে আছি।

স্বল্পদৈর্ঘ্যটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং শুটিং নিয়ে বলুন…

মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ভাই একদিন ফোন করলেন। আমাকে বললেন, ‘বোন, একটা চরিত্র আছে, দারুণ। তুমি যদি করতে চাও তাহলে অডিশন দিতে হবে।

অডিশনে পাস করলে তখন চূড়ান্ত করব। কিছু মনে করলে চলবে না।’ আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারণ ইমরান ভাই যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই ভালো চরিত্র। গেলাম তাঁর অফিসে। আগেই তিনি দুটি দৃশ্য পাঠিয়েছিলেন। সেটি বাসায় রপ্ত করেই গিয়েছিলাম। ইমরান ভাইয়ের সামনে দৃশ্য দুটির অডিশন দিলাম। তিনি খুশি হলেন। আমাকে আরো দুটি হোমওয়ার্ক দিলেন। কিভাবে কথা না বলে, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার না করে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা যায়। হোমওয়ার্ক দুটিও ভালো করে করলাম। এরপর গেলাম শুটিংয়ে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শুটিং স্পট। কয়েকটি দৃশ্য করলাম, কিন্তু মনে হলো ইমরান ভাইয়ের মনের মতো হচ্ছে না। আমার অভিব্যক্তি তাঁর ভালো লাগছে না। তিনি স্পটে পুরো ইউনিটকে বললেন, তিন দিন যেন কেউ আমার সঙ্গে কথা না বলে। সত্যিই তা-ই, পুরো তিন দিন আমি কারো সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। চরিত্রটিও তখন প্রাণ পেতে শুরু করে। এককথায় ইমরান ভাই আমার কাছ থেকে আদায় করে নিলেন।

অভিনেতা ইমরানকে তো অনেকেই চেনেন। নির্মাতা ইমরানকে কেমন দেখলেন?

সবার আগে আমি তাঁর সাহসের প্রশংসা করব। আমি আন্ডাররেটেড অভিনেত্রী। তার পরও আমাকে নিয়ে এই ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া এটা তাঁর প্রথম নির্মাণ। চাইলেই বাণিজ্যিক ঘরানার গল্প বেছে নিতে পারতেন। অথচ বেছে নিয়েছেন সমাজের আড়ালে থাকা এক সত্য প্রথাকে। গল্পে আমি বোবা এক নারী, যার সন্তান হয় না। ফলে পরিবার, স্বামী, আত্মীয়-স্বজন—সবার কাছে হেয় হতে হয়। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আপনি একটু খুঁজে দেখেন শুধু গ্রামে নয়, এই শহরের অনেক পরিবারেও এমন ঘটনা আছে। ইমরান ভাই সেটা দেখানোর সাহস করেছেন। নির্মাতা হিসেবে তাঁকে আমি এক শতে এক শ দেব।

 

সামনে ঈদ। নতুন কিছু করছেন?

সাত পর্বের একটা ধারাবাহিক নাটক করেছি। বৃন্দাবন দাসের রচনায় ঈদ ধারাবাহিক ‘মেইন কাস্টিং’ পরিচালনা করেছেন নিয়াজ মাহবুব। বেশ মজার গল্পে তৈরি হয়েছে এটা। দর্শকের ভালো লাগবে। আরো কয়েকটি একক নাটকের কথা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে জানাব।

 

‘ট্রাইব্যুনাল’ ছবির শুটিং শেষ?

না। আমার কিছু অংশের শুটিং বাকি আছে। তানিয়া বৃষ্টিও অসুস্থ। সুস্থ হওয়ার পর সবার শিডিউল নিয়ে হয়তো বাকি অংশের শুটিং শুরু হবে।

 

ভ্লগ শুরু করেছিলেন। সেটা বন্ধ করলেন কেন?

আমি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হয়ে ভ্লগটি করেছিলাম। আটটি পয়েন্ট নিয়ে ভ্লগগুলো করেছি। এরপর আর তারা নতুন করে আমার সঙ্গে চুক্তিতে আসেনি। মাঝখানে ভেবেছিলাম, নিজে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে ভ্লগ করব; কিন্তু শুটিংসহ নানা ব্যস্ততার কারণে সেটাও হয়ে ওঠেনি।