স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব—বললেন কোহলির পুষ্টিবিদ

নিউজ ডেস্ক২ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

প্রচলিত বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলির পুষ্টিবিদ রায়ান ফার্নান্ডো। তার মতে, ডায়াবেটিস আজীবন বহন করতে হয়—এ ধারণা ঠিক নয়। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস রিভার্সিবল’, অর্থাৎ ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। এমনকি যেসব রোগীর HbA1c অনেক বেশি এবং যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারাও পরিবর্তন আনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ফার্নান্ডোর মতে, এর রহস্য লুকিয়ে আছে খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিততা বজায় রাখায়। বিশেষ করে প্রতিদিনের খাবারে কার্বোহাইড্রেট মাত্রা সমান রাখা।

তিনি বলেন, ‘মানুষ একটি ভুল করে, আমার বাবাও করেছিলেন—ওষুধ খাচ্ছি মানে পুরনো খাবার চালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু এখন আপনি অসুস্থ, তাই খাবারও বদলাতে হবে।

প্রতিদিনের নাশতা যেন হয় ৬০ গ্রামের বেশি কার্বোহাইড্রেটের না থাকে।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রতিদিন ভিন্ন ধরনের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে ইনসুলিন ব্যালেন্স করতে পারে না। তাই তিনি কার্বোহাইড্রেট নির্দিষ্ট রাখার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে ওজন প্রশিক্ষণ ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়িয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে বলেও জানান তিনি।

ডায়াবেটিস কি সত্যিই রিভার্স করা যায়

এই দাবির ভিত্তিতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কথা বলেছে অ্যাপোলো হাসপাতাল, চেন্নাই-এর এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ড. এস রামকুমারের সঙ্গে।

ড. রামকুমার জানান, ‘রিভার্সাল’ ও ‘রিমিশন’ শব্দ দুটি প্রায়ই একে অপরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হলেও তাদের অর্থ এক নয়। তার মতে, মৃদু টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রিভার্সাল সম্ভব। তবে রোগ যদি অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং রোগী ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাহলে তা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রিমিশন বা রিভার্সাল নিয়ে ধারণা নতুন নয়।

তবে এটি নির্ভর করে ডায়াবেটিসের ধরন অনুযায়ী। টাইপ-১, টাইপ-২, জেনেটিক, গর্ভাবস্থাজনিত, ওষুধজনিত অথবা প্যানক্রিয়াটিক ডায়াবেটিস—সব ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ও ফলাফল আলাদা।
উদাহরণস্বরূপ, স্টেরয়েডজনিত ডায়াবেটিসে ওষুধ বন্ধ করলে অনেক সময় ব্লাড সুগার স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্যদিকে, প্যানক্রিয়াটিক ডায়াবেটিসে দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, আর রিভার্সাল সাধারণত সম্ভব নয়।

গর্ভাবস্থাজনিত ডায়াবেটিসে সাধারণত প্রসবের পর ব্লাড সুগার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই সেখানে রিমিশন বা রিভার্সাল প্রযোজ্য নয়। তবে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও রিভার্সাল সম্ভব নয়। কারণ এটি অটোইমিউন রোগ, যা বিটা সেল ধ্বংস করে দেয়। যদিও কিছুদিনের জন্য ‘হানিমুন ফেজ’ নামে পরিচিত একটি সময় থাকে, তখন ইনসুলিনের চাহিদা কমে, কিন্তু এটি স্থায়ী নয়।

এই প্রসঙ্গে ড. রামকুমার বলেন, রায়ান ফার্নান্ডোর বক্তব্য আংশিক সত্য। ‘টাইপ-২ ডায়াবেটিসে যদি রোগী স্থূলকায় হন এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে উৎসাহী হন, তাহলে রিমিশন সম্ভব, বিশেষ করে যদি সেটি নতুন ধরা পড়ে’।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের উপায় নতুন নয়, তবে আজকের দিনে এগুলো বেশি প্রচার পাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করেন, সপ্তাহের প্রতিদিন ৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট খেতে হবে—এ ধরনের দাবিগুলো অস্পষ্ট এবং এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দুর্বল।

ড. রামকুমারের মতে, যেকোনো সুপারিশ ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া উচিত এবং তা পিআর-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়া উচিত—একজন রোগীর জন্য কার্যকর কিছু, অন্যজনের জন্য নাও হতে পারে।