রাজশাহী

মোবাইল ফোন কানে, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল রুয়েট শিক্ষার্থীর

নিউজ ডেস্ক৫ এপ্রিল ২০১৭২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় রাজশাহীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল রুয়েট শিক্ষার্থীর। বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে নগরীর দরিখরবোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম আরিফ আরমান সজিব (২৫)। তিনি নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার মাহাবুবুল হোসেনের ছেলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনের ধারে অবস্থিত ওয়েলডিংয়ের একটি দোকান থেকে বের হয়ে কানে মোবাইল ধরে সামনের দিকে এগোনের চেষ্টা করেন। ওইসময় সজিব সেটি টের না পাওয়ায় কাছাকাছি এসে তাকে ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এতে সজিব ট্রেনের সঙ্গে আটকে গিয়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। তৎক্ষণে তার শরীরের অধিকাংশ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দরিখরবোনা রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন সজিব। ওই সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনে রাজশাহী স্টেশনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনটি জোরে হুইছেল দিচ্ছিল। তবে সচিব সেটি টের না পাওয়ায় কাছাকাছি এসে তাঁকে ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এতে সজিব ট্রেনের সঙ্গে আটকে গিয়ে ১০০ গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। তৎক্ষণে তার শরীরের অধিকাংশ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন রেলওয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরেই সজিবদের ভাড়া বাড়ি। তেরোখাদিয়া এলাকায় তাঁদের বাড়ির কাজ চলছে বলে দরিখরবোনা রেললাইনের পাশের একটি ১০ তলা ভবনে ভাড়া থাকেন সজিবরা। তবে তাঁরা বাবা মাহাবুবুল হোসেন পল্লী বিদ্যুতে চাকরি সুবাদে সিলেটে রয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে মাহাবুবুল ইসলামের কাছে গিয়েছেন সজিবের মা এবং বোন। ফলে বাড়িতে ছিলেন শুধু সজিব এবং তাঁর নানী। সেই ভাড়া বাসা থেকেই বাড়ির কাজের বকেয়া পরিশোধ করতে দরিখরবোনা রেললাইনের পাশে মন্টুর ওয়েলডিংয়ের দোকানে গিয়েছিলেন সজিব।

 

এদিকে খবর পেয়ে সজিবের মামা মোস্তাফিজুর রহমান হিরু এসে ভাগ্নের লাশ সনাক্ত করেন বলে জানান রেলওয়ে জিআরপি থানার এসআই রাজিব হোসেন।
তিনি বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উর্দ্ধত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স/আর