নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর মহানগরীর মতিহার থানা ও ওয়ার্ড জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সরাসরি সহায়তায় ভূমিদস্যু কর্তৃক মেহেরচন্ডি পূর্বপাড়ায় বাড়ির জমির বাউন্ডারী দেয়াল ভেঙ্গে জোরপূর্বক রাস্তার করার সম্পত্তি, দেয়ালের ইট ও কর্তনকৃত গাছ উদ্ধারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রবিবার বেলা বারোটায় ভুবন মোহন পাকে সিটি প্রেসক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়,আমি মোঃ ফারুক হোসেন, পিতা মৃত আনিসুর রহমান, মেহেচন্ডী পূর্বপাড়া, চন্দ্রিমা রাজশাহী। আমি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়াথানাধীন মেহেরচন্ডী মৌজায় ১১৬৫ একর জমি ১৯৯৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী নাটোরের আলফাজ হোসেন এর ছেলে মহীউদ্দিন এর নিকট হতে ক্রয় করি। সেইসাথে উক্ত সম্পত্তি খারিজ করত: হালসন নাগাদ খাজনা পরিপে করে আসছি। যার জে.এল.নং ১৩৭, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং- ২১৬৫, আর.এস খতিয়ান নং- ২৩৮, আর.এর দাগ নং- ২৬০৮, পরিমান ১১৬৫। উক্ত সম্পত্তিতে আমি বাড়ি করে বসবাস করছি। সেইসাথে নিরাপত্তার জন্য চারিদিকে বাউন্ডারী দেয়াল দিয়েছি।
আমার ঐ বাড়ির সম্পত্তি দখল করে রাস্তা করার জন্য পতিত সরকারের আমল থেকে উঠেপরে লেগে আছে। পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ঐ ভূমিদস্যুরা ২৬ নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর আকতারুজ্জামান কোয়েল এর সাথে যোগ সাজস করে আমার সম্পত্তির বাউন্ডারী দেয়াল ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। সেইসাথে তিনি একটি সালিশ করে দেন। যাহা সম্পূর্ন বায়াস্ট হয়ে তিনি বিবাদী পক্ষে করেছিলেন। এজন্য আমরা ঐ সালিশ অমান্য করলে কোয়েল জবরদস্তী শুরু করেন। তাদের অপততপরতা রুখতে এবং বাউন্ডারী দেয়াল ভাঙ্গার উপরের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি রাজশাহী জেলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়া মহল্লার শামসুদ্দীন এর ছেলে আনিছুর রহমান, তসলিম উদ্দীন এর ছেলে আব্দুল হামিদ, খাইরুল ইসলাম এর ছেলে তাহাসিন আলী, ইমাম হোসেন এর ছেলে মখলেসুর রহমান দুলাল এর বিরুদ্ধে মামলা করি। এছাড়াও সুবিধাবাদী অত্র এলাকার মন্ডল প্রধান হজো মন্ডলের ছেলে মো: সোহেল জড়িত। সে মামলা এখনো চলমান রয়েছে।
আমি সোনালী ব্যাংক লিঃ মতিহার শাখা, রাজশাহীর নিকট জমির সমস্ত দলিল ও পর্চাসমুহ বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে উক্ত জমিতে স্থায়ীভাবে বাড়ী নির্মান করি এবং তখন থেকেই সেখানে আমরা পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। দীর্ঘদিন থেকে আমাদের পেছনে ষড়যন্ত্র করছে আমার জায়গা দিয়ে রাস্তা তৈরী করার। পতিত সরকারের আমলে না পারলেও এ সময়ে এসে ভূমিদস্যুরা জামায়াতের মতিহার থানা আমির মোজাম্মেল ও ২৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মিলন সরাসরি উপস্থিত থেকে হুকুম দিয়ে ১০-১০-২০২৫ইং রোজ শুক্রবার ভোর থেকে আমাদের অবর্তমানে তারা এই দখল দারিত্বের তান্ডবলিলা চালিয়েছে এবং তা এখনও চলমান। ভুমিদস্যু আমাদের বাড়ীর উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকের বাউন্ডারী প্রাচির জোরপূর্বক ভেঙ্গে এবং কিছু গাছ কেটে গুম করে ফেলে রাস্তা বানিয়েছে। উক্ত ঘটনা চন্দ্রিমা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন এবং ভূমিদস্যুদের বাউন্ডারী ভাঙ্গতে নিষেধ করেন। কিন্তু পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে ইতোমধ্যে ওয়াল ভেঙ্গে রাস্তা বানিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে বলতে গেলে ঐ ভূমিদস্যুরা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় আমাদের ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকী দিচ্ছে।
আমাদের বাড়ির জমি রক্ষা এবং আমাদের জীবন রক্ষাতে বিভাগীয় কমিশনার, আরএমপি কমিশনার জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ প্রদান করেছি। আমি নিরিহ ও অবসরপ্রাপ্ত একজন চাকুরীজীবী মানুষ। আমার ভাইয়েরাও চাকরী করে জীবন ধারণ করেন। আমাদের পক্ষে কোনভাবেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভূমিদস্যুদের সাথে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। এছাড়াও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিগত কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী এ নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগও করেছিলেন। এমতাবস্থায় আমার আবাসস্থলে বসবাসরত সম্পত্তি, তৈরীকৃত বাউন্ডারী প্রাচির ও কেটে ফেলা গাছগুলো উদ্ধারের জন্য আপনাদের সবার সহযোগীতা কামনা করছি।
আপনারা জাতীর বিবেক। সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে বলাই হচ্ছে আপনাদের মূলনীতি। আসাকরি আপানারা আমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সত্য ঘটনা তুলে ধরে আমাকে সহযোগিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন
মোঃ ফারুক হুসাইন, ফারুক হুসাইন এবং মোসাঃ হাসনারা খাতুন









