নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরোয়ার জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। রোববার রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে আটদলীয় বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন, তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
গোলাম পরোয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তরাঞ্চলের ত্যাগ ও ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে ‘নতুন বাংলাদেশ’-গড়ার প্রয়াসে আটদলীয় জোট অভিন্ন পাঁচ দফা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে, যা সারাদেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তির পরামর্শে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি, “সরকারের গেজেট কোনো ওহীর বাণী নয়”—প্রয়োজনে তা সংশোধন করে প্রথমে গণভোট, পরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কারগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ না করাকে তিনি জনগণের জানার অধিকারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে এখনো প্রশাসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীসহ আটদলীয় জোটের সভা-সমাবেশে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ অবস্থায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে খুনের সাম্প্রতিক ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার নাজুক অবস্থা স্পষ্ট করে। “যে দেশে আদালতের সামনে হত্যা হয়, সে দেশে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি বা হামলা হবে না—তার নিশ্চয়তা নেই,” বলেন তিনি।
গোলাম পরোয়ার জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতির পরিবর্তনের পথ সুগম হবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ড. শফিকুর রহমানের শুভেচ্ছা বার্তাও পাঠ করে শোনানো হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাশেদ প্রধান বলেন, রাজশাহীর রাজপথে যখন হাঁটছিলাম আমার বারবার মনে হচ্ছিল এই রাজপথ বারবার ইসলামী ছাত্রশিবিরের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। আমি হাটছিলাম আর স্মরণ করছিলাম, আল্লাহ ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না। রাকসুর নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে এই দেশ ইসলামের দেশ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অতীতে তিনবার গণভোট হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করার কোনো ইতিহাস বাংলাদেশে নাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়।’ যারা আয়োজন করবে সেই নির্বাচন কমিশনার বুঝে গেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওই বিএনপি বুঝতে পারে নাই। বাংলাদেশের জনগণ বুঝে গেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য ওই অন্তর্বর্তী সরকার নাকি এখনো বুঝতে পারে নাই।
অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাগপা মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে চিনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়া জাতীয় পার্টি সহ ১৪ দলকে এখনো চিনতে পারে নাই। কথাবার্তা পরিষ্কার, এখনো সময় আছে, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের আয়োজন করুন। আওয়ামী লীগের মতই ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন।
তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ে বিগত কয়দিন আমরা এক পাশ দিয়ে লাগাই আরেক পাশ দিয়ে চান্দা পার্টি পোস্টার ছিড়ে। আমি চান্দা পার্টিকে বলতে চাই, ডা. শফিকুল রহমান, পীর সাহেব চরমোনাই, আল্লামা মামুনুল হক সহ আট দলের নেতৃবৃন্দের ছবি এবং নাম পোস্টার থেকে ছিড়তে পারবেন, কিন্তু মানুষের মন থেকে মুছে দিতে পারবেন না। তাদের চাঁদাবাজি হিসাব করতে গেলে ক্যালকুলেটরে এখন আর ডিজিট উঠছে না, এভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্ভব নয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সমমনা আট দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহার, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের নায়েবে আমীর আব্দুল হামিদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আশরাফ আলী আকন্দ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।









