রাজশাহী

জমি নিয়ে বিরোধে হামলা-ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক৫ নভেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবারের সদস্য মো. রাকিব।

লিখিত বক্তব্যে মো. রাকিব বলেন, রাজশাহীর পবা উপজেলার বর্তমান দামকুড়া থানাধীন হরিপুর মৌজায় তাঁর দাদা বিভিন্ন সময়ে বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। ১৯৭২ সালের ২১ জুলাই মো. এমাজ উদ্দীন সাহার কাছ থেকে ৩ দশমিক ০৩ একর এবং ১৯৮৩ সালের ১৬ মার্চ আমিরুদ্দিনের কাছ থেকে ৬৪ শতক জমি কেনেন তাঁর দাদা। এ ছাড়া গোদাগাড়ী ও চর মাজারদিয়ারসহ বিভিন্ন মৌজায় তাঁদের পরিবারের আরও জমি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, দাদার মৃত্যুর পর কয়েকজন আত্মীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করেন।

এসব দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজশাহীর পবা দেওয়ানি আদালতে ১৫০২/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আদালতের আদেশ অমান্য করে হামলার অভিযোগ
মো. রাকিবের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জমি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রেখেছে। ইমন, বিলকিস, নাসিমা ও জোসনা বেগমসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় তাঁর চাচা মো. আব্দুর রাজ্জাককে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। আয়েশা বেগমকে মারধর এবং নাফসার আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর, জমিতে বপন করা কালাই ফসল ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
থানায় অভিযোগ, পরে মামলা নথিভুক্ত
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর মো. সাইদুর রহমান বাদী হয়ে আরএমপির দামকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর দীর্ঘ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তবে এ বিষয়ে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গত বুধবার ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার নম্বর ০২। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত জাল দলিল যাচাই, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।