নিজস্ব প্রতিবেদক:
ক্লান্ত নয়ন ছুটছে সারাক্ষণ ভরছে না তব মন
যেদিকে তাকাই উজাড় শুধু বন
জোছনা রাতে লক্ষীপেচাঁ ডাকত কত হিজলের ডালে।
হিজলের বনের এমন অনেক কথা অনেক সুর নিয়ে কবির মন মেতে উঠত। সেই হিজল বন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে হারিয়ে যেতে বসেছে কবিতার একটি ভাবার্থ। তবে সেই ভাবার্থৃটিকে ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বনসাই। বৃহৎ আকার বৃক্ষটিকে ছোট্ট ফ্রেমে বন্দি করার এ এক অনন্য কৌশল।
এই বনসাই নিয়ে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে ১৭ তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর নানকিং বাজার উদ্যানে চার দিনব্যাপী এ বনসাই প্রদর্শনীর আয়োজন করে রাজশাহী বনসাই সোসাইটি।

রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ-ই-তৌহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য নূরুল হোসেন চৌধুরী এবং বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী এ্যান্ড্রু কিশোর।


১৭ তম এ বনসাই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে রাজশাহী বনসাই সোসাইটির ৬৫ জন শিল্পীদের নিজস্ব তৈরীকৃত ২৪০টি গাছ। উল্লেখযোগ্য গাছের মধ্যে রয়েছে দেশী বট, পাইকর, লাইকড়, শ্যাওড়া, ঘুর্নিবিচি, তমাল তরু, বৈচি, জিলাপী, তেঁতুল, কামিনী ইত্যাদি গাছ। ফাইকাস প্রজাতির মধ্যে বেনজামিনা, রেচুসা, রামফি, লংআইল্যান্ড, গোল্ডেন ভাইরেন্স। এছাড়াও বাগান বিলাস, বাওবাব, জেড, চাইনা বট, থাইচেরী, কদবেলও রঙ্গন সহ আরো অনেক প্রজাতির গাছ।

এছাড়াও স্থান পেয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম গাছ বাওবাব বৃক্ষ। যা মূলত দক্ষিন আফ্রিকার জঙ্গলে পাওয়া যায়।
রাজশাহী বনসাই সোসাইটির নির্বাহী কর্মকর্তা নওরোজ আলী মহিম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, দক্ষিন আফ্রিকার জঙ্গলে পাওয়া যায় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গাছটি রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সংগ্রহে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে দেশের বিরল প্রজাতির এমন অনেক গাছ আছে যা কালের খেয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে। আমরা সেই গাছগুলোকে দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরেছি। বনসাইয়ের আনন্দ সেখানেই যা বৃক্ষের আকৃতিকে ছোট ফ্রেমে বেধে তা সকলকে আনন্দ দেয়। একটি বড় আকৃতির বৃক্ষকে যেমন দেখায় বনসাইয়ের একটি বৃক্ষ সেই আকারে দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, এবারে বনসাই প্রদর্শনীতে ২৪০ টি গাছ প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সকল সদস্যদের সংগ্রহ মিলে প্রায় ৫০০ টি গাছ রয়েছে। প্রদর্শনীতে বনসাই বৃক্ষের মূল্য সর্বনিন্ম ১ হাজার টাকা। আর একটি লাইকড় গাছের মূল্য রয়েছে চার লাখ টাকা। এই লাইকড় বৃক্ষটি অনেক অন্যান্য বৃক্ষের চেয়ে অনেক পুরোনো এবং এর গঠন সবচেয়ে আলাদা।

বনসাই প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগের রাত থেকেই ছিল বনসাই প্রেমীদের ভীড়। সকালে উদ্বোধনের সময় ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে উৎসুক বৃক্ষ প্রেমীদের আনাগোনা। আর দর্শনার্থীদের অধিকাংশই বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে দিন গড়ালে দর্শনার্থী এবং ক্রেতাদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান আয়োজকরা।
বনসাই প্রদর্শনীতে আসা রাজশাহী নিউ গভ: কলেজের শিক্ষার্থী তারানা জান্নাত সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, কলেজ পাশে হওয়ায় বনসাই মেলায় ঘুরতে আসলাম। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। শৈল্পিক কর্মের মধ্য দিয়ে বড় আকারের গাছগুলো যেভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি তা সত্যিই আশ্চর্যজনক।

রাজশাহী কলেজের অপর এক শিক্ষার্থী আবুল হায়াত বলেন, গাছ প্রেমীদের কাছে এ এক অন্য জগৎ। বাসায় যারা বাগান করেন বনসাই তাদের জন্য একটি শিল্প বলা চলে। খুব ভালো লাগে যখন অনেক পুরোনো একটি বড় গাছকে নতুন একটি ছোট গাছে রুপান্তর হতে দেখা যায়। যারা বনসাই করে তারা বলতে পারে এই গাছটি আমার নিজ হাতে তৈরী।
বৃক্ষ ভালোবাসেনা এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। বৃক্ষের আকার আর ভিন্ন রুপ আছে এই বনসাইয়ে। তাইতো বিরল প্রজাতির এই শৈল্পিক গাছগুলোকে দেখতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে দর্শনার্থীদের পদচারণা। চারদিন ব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। সকলের জন্য খোলা থাকবে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।
স/শ









