জাতীয়

ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে পীরগাছায় থানা ঘেরাও

নিউজ ডেস্ক৮ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশী (২৯) নিহতের ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছানোর পর তাঁরা থানার সামনে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছায়। পরে স্বজন ও বিক্ষুব্ধরা থানার সামনে জড়ো হয়ে মোনারুলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেন। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ও উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তাঁরা পুলিশের পোশাক পরে সেখানে যান বলেও অভিযোগ করেন স্বজনেরা।

তাঁদের দাবি, সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযানের সময় মোনারুল ভবনের ছাদে ছিলেন। মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালকসহ কয়েকজন সেখানে গেলে মোনারুল তাঁদের চিনে ফেলেন। এরপর তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মোনারুলকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

নিহতের বোন শাহিনুর বেগম বলেন, মিন্টু মিয়া পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক কোথা থেকে পেলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, পীরগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা সাভারে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

নিহতের স্বজনরা আরো দাবি করেন, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে অভিযানে কারা অংশ নিয়েছিলেন এবং কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে।

তাঁরা সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
বিক্ষোভে আওলাদ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাঁকে ও কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি এলাকা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মিন্টু মিয়া পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে কিশোরীকে উদ্ধারে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্য সাভারে যান। সাভার মডেল থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মোনারুলের বাবা জাফর আলীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলার সময় ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মোনারুল হোসেন বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সেখানে স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মোনারুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সাভার থানা পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ‘মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালকের পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি সঠিক নয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য সাভার থানার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সাভারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুরেও সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।