অর্থ ও বাণিজ্য

চালের দাম পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমেনি

নিউজ ডেস্ক১৯ জানুয়ারি ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি আড়তগুলোয় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি কেজিতে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমেছে এক থেকে দেড় টাকা। তবে খুচরা বাজারে দাম কমেনি। গত সপ্তাহের মতো একই দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল।

অন্যদিকে রাজধানীর বাজারগুলোয় শীতের সবজি সরবরাহ বাড়ায় দাম ক্রেতার নাগালে আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া ডিমের দাম কমেছে। আমদানি ও দেশি দুই ধরনের পেঁয়াজের দামও কমতির দিকে।

আর মাছ-মাংস, ডাল, ভোজ্য তেলসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও নয়াবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারের চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৪ টাকায়। নাজিরশাইল ৫৫-৫৬ টাকা, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মালিবাগ বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা খালেক রাইস এজেন্সির মালিক দিদার হোসেন বলেন, পাইকারি আড়তে চালের দাম বাড়ায় বেশি দামে চাল কিনতে হয়েছে, যা এখনও শেষ হয়নি। পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলে রোববার নাগাদ বাজার পরিস্থিতি দেখে নতুন করে চাল কিনব। কম দামে পেলে অবশ্যই কম দামে বিক্রি করব।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের সবজির দাম। বিভিন্ন সবজি কেজিতে ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার মানভেদে বেগুন বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকা কেজি। ফুলকপি প্রতি পিস ১০-২০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫-২৫ টাকা, শালগম ২০ টাকা কেজি, মুলা ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া পাকা টমেটোর কেজি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে এ সবজি ৩০-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। নতুন আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ২২-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে মানভেদে ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আমদানি করা পেঁয়াজ মানভেদে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া পালংশাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাল ও সবুজ শাক ৫-১০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যদিকে লাউশাক পাওয়া গেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা ও সরিষা শাক ৫-১০ টাকা আঁটি বিক্রি হয়েছে।

কমেছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহে এক ডজন (১২ পিস) ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০-১০৫ টাকা, যা এ সপ্তাহে বিক্রি হয় ৯০-৯৫ টাকা। নয়াবাজারের ডিম বিক্রেতারা জানান, ডিমের সরবরাহ বাড়ছে। এজন্য পাইকারি বাজারে ডিমের দাম কমতি। খুচরা পর্যায়েও ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. শাকিল হাসান বলেন, শীতের সবজিতে বাজার ভরপুর। তাই দামও হাতের নাগালে। কিন্তু চালের দাম এখনও কমছে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ভালোভাবে নজর দিতে হবে।

এদিকে মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। কই প্রতি কেজি ১৬০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা, রুই ২৮০-৩০০ টাকা, ট্যাংরা ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং শিং ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। চিংড়ির কেজি ছিল ৫০০-৯০০ টাকা।

বাজারে পাকিস্তানি কক ২৩০-২৪০ টাকা। এছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হয় ৪০০-৪৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংসের কেজি ছিল ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়।