চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাটে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত গোলাম মোস্তফার ছেলে ওমর ফারুক বাদী হয়ে শামিম আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে চারঘাট মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ গভীর রাতে রহমতউল্লাহ (৭০) ও সোলায়ার হোসেন (৪৫) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে কে বা কারা আসামিদের ফাঁকা ঘরবাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে বাদীপক্ষের দাবি, “আমরা লাশ দাফন ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, তাই লুটপাটের বিষয়ে কিছুই জানি না।”

গতকাল শুক্রবার সকালে চারঘাট প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা সরেজমিনে বালাদিয়াড় গ্রামে গেলে দেখা যায়, আসামিদের বাড়িঘর ফাঁকা পড়ে আছে। একটি বাড়িতে নতুন ব্যাটারিচালিত অটো থাকলেও তার পাঁচটি ব্যাটারি খোলা। অন্য বাড়িগুলোতে ছাগল থাকার পরও ছাগলগুলো নিখোঁজ। তবে আসামি শামিমের বাড়িতে ছোট একটি গরু দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত সমোতুল্লাহর দুই স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় দেড় বিঘা পুকুরপাড়ে থাকা দুটি খেজুর গাছকে ঘিরেই শুরু হয় নতুন করে সংঘর্ষ। রহমতউল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক আসন্ন শীত মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ দু’টি কাটছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে অপর পক্ষের গোলাম মোস্তফা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।
স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও পরে পাশ্ববর্তী স্কুলমোড়ে মোস্তফার ভাই মসলেম উদ্দিন গেলে রফিক ও শফিকসহ অন্যরা তাকে মারপিট করে। খবর পেয়ে উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক গোলাম মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সরেজমিনে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, “মাত্র দুটি খেজুর গাছের রস সংগ্রহকে কেন্দ্র করে একজন মানুষ মারা গেলেন। গাছ দু’টি আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মোস্তফা আর ফিরে আসবেন না।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালাদিয়াড় গ্রামে সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা (৬০) নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের নয়জন— জাদু (৫০), লিটন আলী (৩৫), রিপন আলী (৩০), এনামুল হক (১৮), এজাজুল হক (২২), নাঈম আলী (১৮), আব্দুল কুদ্দুস আলী (৩৪), রফিকুল ইসলাম (৩৮) ও ফায়সাল হক (১৯)।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “লুটপাটের কোনো খবর এখনো আমাদের জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









