সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কোনো পদে লোক নিয়োগের জন্য ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই বিষয়ে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে মুসলিম হিসেবে জীবনের সব কাজ ইসলামী অনুশাসন মোতাবেক হয়।
নিম্নে কয়েকটি পেশা ও তা গ্রহণের বিধান বর্ণনা করা হলো—

যেসব প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কাজকর্ম হয় সেখানে চাকরি করা বৈধ নয় এবং সেখান থেকে অর্জিত বেতন/ভাতাও হালাল নয়। যেমন—সিনেমা, বায়োস্কোপ, পূর্ণ সুদভিত্তিক ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
তবে ফোকাহায়ে কেরাম বলেছেন, যার হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় নেই; অনন্যোপায় অবস্থায় বিকল্প হালাল ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ব্যাংক, বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এবং সেখান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করা জায়েজ হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া, সপ্তম খণ্ড; ফাতাওয়া রহিমিয়া, দ্বিতীয় খণ্ড)
* প্রোভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ (মূল ও বর্ধিত অংশসহ) গ্রহণ করা জায়েজ। তবে চাকরিজীবী স্বেচ্ছায় বা ঐচ্ছিক যে অংশ কর্তিত করাবে, সে ক্ষেত্রে তাকওয়া হলো তার ওপর অর্জিত বর্ধিত অংশ ভোগ না করা।
* কোনো চাকরি গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিবস্ত্র হয়ে মেডিক্যাল করানো বৈধ নয়।
(ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, দ্বিতীয় খণ্ড)
* চাকরি ঠিক রাখার জন্য বা চাকরিতে কোনো সুযোগ-সুবিধা লাভ করার জন্য ভ্যাসেকটমি/লাইগেশন করা নাজায়েজ ও হারাম।
* চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে যদি এই নিয়ম থাকে যে চাকরি ছাড়তে হলে এক মাস বা এ রকম কোনো নির্দিষ্ট সময় আগে মৌখিক/ লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করতে হবে, তাহলে নিয়ম ভঙ্গ করলে চাকরিজীবীর পাপ হবে, তবে প্রতিষ্ঠান এর জন্য চাকরিজীবী থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না কিংবা চাকরিজীবীকে ওই এক মাসের বেতন ফেরত দিতে হবে না।
* চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি শর্ত আরোপ করে যে অন্তত এক বছর বা নির্দিষ্ট এত সময় আগে চাকরি ছাড়তে পারবে না, তাহলে শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া সে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে চাকরি ছাড়লে শক্ত গুনাহগার হবে, তবে যত দিন চাকরি করেছে, তার বেতন-ভাতা সে পাবে।
* নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নিছক অযোগ্যতার কারণে কোনো চাকরিজীবীকে বরখাস্ত করা হলে অবশিষ্ট সময়ের বেতন-ভাতা সে পাবে না।
* চাকরিজীবী নির্ধারিত ছুটির বাইরে যে কয় দিন ছুটি কাটাবে তার বেতন-ভাতা সে পাবে না। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ছুটির দিন নির্দিষ্ট করা না থাকলে অনুরূপ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক রেওয়াজ কি তা দেখা হবে।
* এক বছর নির্ধারিত ছুটি না কাটালে বা কম কাটালে পরবর্তী বছর বিগত বছরের বকেয়া ছুটি ভোগ করার দাবি করতে পারবে না।
* নির্ধারিত ছুটি ভোগ না করে সে ছুটির সময় ডিউটি পালন করার জন্য অতিরিক্ত বেতন-ভাতা দাবি করা যায় না।
* অফিস টাইমে ব্যক্তিগত কাজ করা, এমনকি একটি ব্যক্তিগত চিঠিপত্র লেখাও জায়েজ নয়।
তবে অফিসের কোনো কাজ না থাকলে ভিন্ন কথা।
* মাদরাসার শিক্ষক বা স্কুল-কলেজের শিক্ষক যে ঘণ্টায় তাঁর ক্লাস নেই তখন ব্যক্তিগত কাজ করতে পারেন বা অন্যের কোনো কাজ করে দিতে পারেন।
চাকরি বা বসবাসের জন্য বিদেশ গমনের মাসায়েল
* নিজের দেশে এবং নিজের শহরে অন্য লোকদের মতো জীবন-জীবিকা চালানোর মতো আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা থাকলে শুধু জীবনের স্ট্যান্ডার্ড বৃদ্ধির জন্য এবং বিলাসী জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম দেশে গমন করা মাকরুহ।
* সমাজে সম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বা অন্য মুসলমানের ওপর বড়ত্ব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বা বিজাতীয় কৃষ্টি সভ্যতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলমান দেশে বসতি গ্রহণ করা হারাম।
* নিজের দেশে থেকে ন্যূনতম জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও করতে না পারলে যদি কোনো অমুসলিম দেশে কোনো বৈধ চাকরি পাওয়া যায় তাহলে সেখানে যাওয়া ও থাকা জায়েজ দুটি শর্তে—(১) সেখানে গেলে ঈমান-আমল রক্ষা পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। (২) সেখানে প্রচলিত অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
* কোনো অপরাধ ছাড়া নিজের দেশে জেল-জরিমানা বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেও অমুসলিম দেশে বসবাস করতে যাওয়া জায়েজ উপরোক্ত দুটি শর্তে।
* অমুসলিমদের দাওয়াত ও তাবলিগের উদ্দেশ্যে হলে অমুসলিমদের দেশে বসবাস করতে যাওয়া জায়েজ, বরং উত্তম।
কয়েকটি আধুনিক পেশা সম্পর্কে ইসলামী শরিয়তের বিধান
* ওকালতির পেশা জায়েজ। তবে শর্ত এই যে সত্য কেস গ্রহণ করবে; অর্থাৎ যে মক্কেল ন্যায়ের ওপর আছে তার কেস পরিচালনা করবে। মিথ্যা মোকদ্দমা পরিচালনা করা জায়েজ নয় এবং তার বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করাও হারাম।
* আইনজীবীদের জন্য আইনবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে অর্থ গ্রহণের পেশা বৈধ।
* ওষুধ দেওয়া ছাড়াও শুধু ব্যবস্থা বলে দিয়ে বা প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে রোগী থেকে অর্থ গ্রহণের পেশা বৈধ।
* ঘড়ি ও চশমা মেরামতের পেশা বৈধ।
* সাংবাদিকতার পেশা বৈধ, তবে সাংবাদিক তথা পত্রপত্রিকার কর্মকর্তাদের নিম্নোক্ত নীতিমালা মেনে চলতে হবে—
যথাযথ প্রমাণ ছাড়া এমন কোনো ঘটনা ছাপা যাবে না, যাতে কারো দোষ প্রকাশ পায়, কারো বিপদের কারণ ঘটে। কেননা কোনো কাফির সম্পর্কেও মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা জায়েজ নয়।
কোনো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার জন্য শুধু লোক মুখের রটনা বা কোনো পত্রপত্রিকা বা প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হওয়াকে যথেষ্ট মনে করবে না।
মানুষকে উপদেশ প্রদান ও সতর্ক করার নিয়তে কোনো দোষ বা বদনামের কথা বলা যায়।
পত্রপত্রিকার এমন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে হবে, যিনি ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে পারদর্শী অথবা দ্বিনি বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম থেকে জেনে নেওয়ায় অভ্যস্ত।
* ইলেকট্রিক কাজের পেশা বৈধ। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিকের কাজ করা বা অবৈধ সংযোগ লাগিয়ে দেওয়া বৈধ নয়।









