রাজশাহীর খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা: ৭ মাসে ৩০ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক১৩ আগস্ট ২০১৬৩ মিনিট পড়া

ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। কোন কিছুতেই কমছেনা আত্মহত্যার মত জীবননাশকারী মারাত্মক এই প্রবণতা। ময়নাতদন্তকারিদের তথ্যমতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা, সংসারে অভাব-অনটন, পরকিয়া প্রেম ও যুবক-যুবতিদের পছন্দমত বিয়ে না দেওয়াসহ নানা কারণে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা।

 

দিনের পর দিন এ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে নারী-পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ছেলেদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং মেয়েদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এছাড়া কিছু কিশোরীও রয়েছে এই তালিকায় যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সাত মাসে ৩০ জন আত্মহত্যাকারীর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
নারী ও পুরুষরা প্রধানত দুই ভাবে আত্মহত্যা করে থাকেন। এরমধ্যে আত্মহত্যার একটি ধরণ হচ্ছে গলায় ফাঁস ও আরেকটি হচ্ছে বিষপানে আত্মহত্যা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মৃত্যুবরণকারী নারীদের মধ্যে অধিকাংশরই বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
গেল মাসে শিবগঞ্জ উপজেলার পূর্বশ্যামপুর গ্রামের বিষপানে আতœহত্যাকারী জান্নাতির বাবা বাশির আলি জানান, আমার মেয়ে পূর্বশ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ভালভাবে লেখাপড়াও করছিল। কিন্তু সামান্য একটি কারণে সে ছোট ভাইয়ের সাথে মোবাইল নিয়ে ঝগড়া করে বিষপান করে আত্মহত্যা করে।
মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসকের কাছে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, কয়েক বছর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলসহ সারাদেশে আত্মহত্যার খবর খুব বেশি একটা শোনা যেত না। কিন্তু বর্তমানে পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে আত্মহত্যার মত মারাত্মক এসব ঘটনা। যা আমাদের সমাজের সচেতন মানুষদের ভাবিয়ে তুলেছে।
স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে অভিমানে অনেক নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তারমধ্যে বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছা থাকে না। সংসারে অভাব-অনটন, চাওয়া-পাওয়ার সংমিশ্রন না ঘটলে এবং পরকিয়া প্রেমের কারণেও অনেক নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। কাঙ্খিত কোন কিছু না পেলেই তাদের মধ্যে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা হয় এবং সেই ইচ্ছা থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যা করার আগেও সেসব নারী ও পুরুষরা মনে করেন কেউ যদি তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন তাহলে তারা আত্মহত্যা করবে না। কিন্তু অবশেষে যখন কাউকেই সে পাশে পায় না তখন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনার জন্য শুধু যিনি আত্মহত্যা করেন তিনিই দায়ী নন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোও দায়ী। সমাজের মানুষদের ব্যাপক সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যার মত ঘটনা কিছুটা কমতে পারে বলে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অভিমত ব্যক্ত করেন। আত্মহত্যার মত ঘটনাগুলোকে কমিয়ে আনতে হলে ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজকেও অনেক ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তারা মনে করেন।
গেল এক বছরে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য ছিল। হাসপাতালের তথ্য ছাড়াও আরো অনেক নারী-পুুরুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। যে ঘটনাগুলো পত্রিকার পাতায় আসেনা। যা অজানায় রয়ে যায়। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
স/শ