কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলিতে পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হওয়ায় ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন প্রতিারোধে জরুরী ব্যবস্থা না পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে সদর উপজেলার আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ২২ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৭৮ কোটি টাকা। আগামী জুন মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

এরই মধ্যে গ্রুপ দুই-এ, দুই-বি, তিন-এ, তিন-বি, চার-এ ও চার-বি এর কাজ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর আবারো নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পুরো বাঁধই হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে- প্রকল্পের ছয়টি গ্রুপ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই-এ, দুই-বি, তিন-এ, তিন-বি, চার-এ ও চার-বি গ্রুপ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছয়টি গ্রুপের দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার। ওই ছয়টি গ্রুপের ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা।
স্থানীয়রা সিল্কসিটি নিউজকে জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভাঙন দেখা দিয়েছে প্রকল্প এলাকায়। নদী ভাঙন কখন ভয়াল আকার ধারণ করবে তা তো বলা যায় না। তাই আগে থেকেই ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া উচিত। নয়তো ভাঙন বেড়ে গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে না। তারা আরো জানান, ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে একদিকে যেমন পুরো প্রকল্প ভেস্তে যাবে অন্যদিকে আবারো নদী তীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি, আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শত শত মানুষ শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে। এ এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো সর্বস্বান্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকল্প এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও একই দাবি করেছেন। শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান, আলাতুলিতে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের দাবিটি ছিল এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি একটি প্রকল্প। অনেক আন্দোলন-কর্মসূচি আর অনেক প্রতিক্ষার পর বাঁধ নির্মাণ করে নদী তীর সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেয়া উচিত হবে না। তিনি জানান, এই প্রকল্পের কাজের সময় অতিরিক্ত যে ব্লক তৈরী করা হয়েছিল তা নদী তীরেই রাখা আছে। ওই ব্লকগুলো ফেলেও (ডাম্পিং করে) জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার জানান, ভাঙন প্রতিরোধ বা যে কোনে জরুরী পরিস্থিতির জন্যই প্রকল্প এলাকায় ব্লক তৈরী করে রাখা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় সংরিক্ষত ব্লকগুলো ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
স/আর









