কিন্তু আজ সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মাসিক সভায় যোগ দিতে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করে তার মৃত্যু সেই স্বপ্নটিকে এখন অধরাই করে রেখে গেলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে আপাদ-মস্তক দেশপ্রেমিক এই মানুষটির শূন্যতা পূরণ হবার নয় বলে দাবি করেছেন তার সহকর্মীরা।

অনেকটা সহজ-সরল সাধা-সিধে এই মানুষটির শোকে শোকবিহ্বল জাহিদুল ইসলামের সহকর্মীরাও। সেইসঙ্গে চাঁপাইনবাগঞ্জবাসীও। তাই তার মৃত্যুর পরে অনেকেই সরাসরি আবার কেউ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করেছেন নানাভাবে।
`গ্রীণ সিটি আর হলো না’ উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক ইমতিয়াজ ফেরদৌস সুইট তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সোমবার সকালে বৈঠক চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম (ইন্নালিল্লাহি…….রাজেউন)। গত শনিবার সন্ধ্যায় তার সাথে শেষ দেখা। ওইদিন জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তা আর হলোনা। পেশাগত কাজে খুব মিস করব আপনাকে। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসি করুন।’
রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুর্ন:বাসন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন জেলা প্রশাসক জহিদুল সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিল্কসিটি নিউজের কাছে বলেন, ‘অসাধারণ একজন লোক ছিলেন তিনি। দেশের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালবাসা। তিনি সবার সঙ্গেই খুব সহজেই মিশতে পারতেন। খোলা মনের এই মানুষটি আমরা অকালেই হারালাম।’

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, ‘অনেক ভাল একটা লোককে হারালাম আমরা। এই শোক কাটিয়ে উঠা যাবে, কিন্তু তার শূন্যতা কাটিয়ে উঠা সহজ নয় ।
প্রসঙ্গত, মাসিক সভায় যোগ দিতে এসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সভাকক্ষের সামনে মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের লাশের জানাযা বিকেল তিনটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে পাঠানো হবে লাশ। সেখানে দ্বিতীয় জানাযার পর তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান সিল্কসিটি নিউজকে জানান।
স/আর









