সিল্কসিটিনিউ ডেস্ক:
সদর দরজার মাথার ওপর লাল-কালো কালিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘আবদার-অরেচা নীড়’। প্রশাসনের দেওয়া ঘরটি আগের মতোই রয়েছে; নেই সঙ্গের মানুষটি।
সুখ-দুঃখে যে ঘরে কেটেছে একসঙ্গে, সেই ঘর এখন ফাঁকা। স্বামী হারিয়ে নিঃসঙ্গতায় অনেকটা বন্দি সময় কাটছে অরেচার।
প্রায় শত কিলোমিটার দূর থেকে এসে বামন নারী অরেচা বেগম আদুরী ঘর বাঁধেন আরেক বামন আবদার হোসেনের সঙ্গে। টানা ১৫ বছর ধরে সংসার করেন তারা।

কখনও দিনমজুরি, কখনও ভিক্ষেবৃত্তির একপর্যায়ে প্রশাসন থেকে ঘর ও অটোরিকশা পেয়েছিলেন এ বামন দম্পতি। এর পর থেকে সুখেই কাটছিল তাদের জীবন, কিন্তু বছরখানেক আগে না ফেরার দেশে চলে যান স্বামী আবদার হোসেন। তারপর থেকে একা দিন পার করছেন অরেচা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩৬ বছর আগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন থেকে একই উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাজী মিজানুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিন ফুট উচ্চতার আবদার হোসেন।
সহায় সম্পদ না থাকায় ওই বাড়িতে থেকে কৃষিকাজ করতেন তিনি। একটি বিয়েও করেন। কিন্তু দুই বছর পর ঘটে বিবাহবিচ্ছেদ। তিন বছর পর আবার বিয়ে করেন। সেই বিয়ে টেকে মাত্র দুই মাস।
সবশেষ ২০১০ সালে রংপুরের পীরগঞ্জের মধুপুর গ্রামের মেয়ে সোয়া তিন ফুট উচ্চতার অরেচাকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন আবদার।
ভিক্ষেবৃত্তি করে জীবন চলতো বামন দম্পতি আবদার-অরেচার। শরীরে নানা অসুখ দানা বাঁধায় ভিক্ষের জন্য পথে নামতে পারতেন না প্রতিদিন। সন্তান-সন্ততি নেই। ছিল না নিজস্ব ঘরবাড়িও। এ নিয়ে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাদেরকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয় আশ্রয়দাতা মিজানুর রহমানের জমিতে। রোজগারের জন্য দেওয়া হয় একটি অটোরিকশাও।
সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান আবদার। তার পর থেকেই অরেচার একাকি জীবন। স্বামী নেই, একা থাকতে পারেন না ঘরে। প্রায়ই বাবার বাড়িতে থাকেন। স্বামীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে অরেচা বলেন, ‘সকালে সুস্থ মানুষ। হঠাৎ করে বুকে ব্যথা। হাসপাতালে নেওয়া হলো। রাতেই মানুষটা চলে গেল। যার স্বামী-সন্তান নাই, সেই জানে একা থাকার কী কষ্ট!’
আশ্রয়দাতা প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে কাজী আলমগীর হোসেন বাবু বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অরেচা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। একা থাকেন না; বাবার বাড়ি অথবা আমার মায়ের কাছে থাকেন।’
কাঁঠালবাড়ী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু সাঈদ তাজুল বলেন, ‘অরেচা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়।’









