আলাউদ্দিন,লালপুর প্রতিনিধি:
নিজ বন্ধুদের হাতেই হত্যার শিকার হতে হয়েছে লালপুরের মেধাবী ছাত্র জালাল উদ্দীনকে। ঘটনার ৪/৫ দিনের মাথায় লালপুর থানা পুলিশ জলাল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
লালপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, জালাল হত্যা মূল হোতা তার কাছের ঘনিষ্ট বন্ধুরা। ব্যবসার প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক খুব ঠান্ডা মাথায় জালালকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পূর্ব প্রস্তুতি:
গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর কাছের বন্ধু পিন্টু জালালের পানের দোকানে বসে ছিল। এমন সময় আরেক বন্ধু সাদ্দাম সেখানে উপস্থিত হয়। সাদ্দামকে পিন্টু জানায় আজ রাতে পার্টি হবে। রাত আনুমানিক ৯ থেকে সাড়ে ৯টার দিকে পিন্টু, রুবেল, জালালসহ সঙ্গীরা ব্যাগে মদ আর গাঁজা নিয়ে তারা সবাই লালপুর হল মোড় হয়ে দক্ষিণ লালপুর পাড়ি দিয়ে পদ্মার চরে যায়। সেখানে সবাই গোল হয়ে বসে মদ, গাঁজা ও সিগারেট খায়। নিজেরা কম খেয়ে বন্ধুরা সবাই মিলে জালালকে বেশি পরিমাণে মদ, গাঁজা ও সিগারেট খাওয়ায়।

যেভাবে হত্যা করা হয়:
পদ্মার চরে আড্ডাস্থল থেকে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে পিন্টু, রুবেল ও সাদ্দামসহ সঙ্গীয় বন্ধুরা মিলে জালালকে ধরে। সাদ্দাম জালালের পা চেপে ধরে। তখন জালাল চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে পিন্টু জালালের মুখ চেপে ধরে।
এ সময় আরেক বন্ধু তার কাছে থাকা রশি বের করলে পিন্টু উক্ত রশি দিয়ে জালালের গলায় বাঁধে। পিন্টু ও সঙ্গীরা দুই দিকে থেকে রশি টেনে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে জালালকে হত্যা করা হয়। জালালের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার ঘাড় থেকে মাথা পর্যন্ত মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়ে চার বন্ধু ঘটানাস্থল ত্যাগ করে।
পরিবারের খোঁজ খবর:
মা রাজিয়া বেওয়াসহ পরিবারের লোকজন রাতে তাকে খোঁজে কিন্তু জালালের খোঁজ কেউ দিতে পারেনি। তার পারিবারের লোকজন ভাবে কোন বন্ধুর কাছে থাকতে পারে, সকালে চলে আসবে। সত্যিই মায়ের বিশ্বাসই ঠিক হলো। সকালে জালালকে ঠিকই পাওয়া গেল। বন্ধুদের কাছে থেকে নয়, বন্ধুদের রেখে আসা জায়গা থেকেই জালালের লাশ পাওয়া গেল।
হত্যাকারী বন্ধুদের পরিচয়:
পিন্টু (২৩) পিতা-আজিজুল মন্ডল। সাদ্দাম হোসেন (২২), পিতা- রেজাউল মন্ডল। রুবেল ( ২২) পিতা-তোতা মন্ডল। অজ্ঞাত সকলের সাং-উত্তর লালপুর, লালপুর, নাটোর।
মামলার অগ্রগতিঃ
এ ঘটনায় লালপুর থানার ওসি দৃঢ়তার সাথে অনুসন্ধান চালিয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার শরিফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স তল্লাশী চালিয়ে সাদ্দাম ও রুবেলকে আটক করে। আটকের পর ব্যাপক জিঙ্গাসাবাদে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। তাদের গত ২৯ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করলে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট সাদ্দাম ও রুবেল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে বর্ণনা দেয়।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ওবায়েদ সিল্কসিটি নিউজকে জানান, আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট আসামী সাদ্দাম ও রুবেল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে হত্যার ঘটনা বর্ণনা দেয় এবং স্বীকার করে। মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে, ইতিমধ্যে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিঙ্গাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ এ ঘটনাসহ আইন শৃংখলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। জালাল হত্যার মূল হোতাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। দেশের জনগণ অচিরেই তা দেখতে পাবেন।
উল্লেখ্য, নাটোরের লালপুর উপজেলার দক্ষিণ লালপুর পদ্মার চর এলাকায় একটি মোটরের ক্ষেতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে লালপুর থানা পুলিশ রোববার (২৫ ডিসেম্বর) জালাল উদ্দিনের (২৫) লাশ উদ্ধার করে। জালাল উত্তর লালপুর গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ২৭ ডিসেম্বর জালার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়।
স/শ









