নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাড়ে ৩০০ পুকুর ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদ থেকে তিন বছর মেয়াদি ইজারা দেওয়া হলেও অন্তত দুই বছরের টাকা এখনো সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন বছরের টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে করে সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত ৩০ মার্চ করা ওই অভিযোগের একটি কপি কালের কণ্ঠের রাজশাহী অফিসেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন হাজার খাস পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে স্থানীয় মাছচাষিদের কাছে বাংলা ১৪১৯ থেকে ১৪২১ সাল পর্যন্ত ২৪১টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪২২ থেকে ১৪২৪ সাল পর্যন্ত আরো ৩০১টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। এসব পুকুরের মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম বছরের ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। আবার কোনোটির ক্ষেত্রে পুরো তিন বছরের অর্থই আত্মসাৎ করা হয়। পুকুরের ইজারাদারের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এসংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিজের কাছে থাকা ব্যাংকের জমা স্লিপ কাউকে কাউকে হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওই টাকা আদৌ ব্যাংকে জমা হয়নি।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ইজারাদার প্রতিবছর ইজারার টাকা সরকারি কোষাগারে সরাসরি জমা দেবেন। এটি করতে ব্যর্থ হলে ওই ইজারা বাতিল করে পুকুর আবার ইজারা দেওয়া হবে। কিন্তু সেটিও করা হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে, পুকুর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিজানুর রহমানের ইচ্ছা প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁকে যারা খুশি করতে পারে, কেবল তাদেরই পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। এতে করে প্রকৃত মাছচাষিরা ইজারা পায়নি। দলীয় প্রভাবের কারণে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের কাছেও কয়েক শ পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেসব নেতা মাছচাষ না করে অন্য মাছচাষিদের কাছে অতিরিক্ত দামে ইজারা হস্তান্তর করেছেন।
তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমান।
গতকাল শনিবার মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘পুকুর নিয়ে আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। এত টাকা আত্মসাৎ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পুকুর নিয়মমতো লিজ প্রদান করা হয়েছে। নিয়মমতো সরকারি কোষাগারে অর্থও জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। ’
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তার পরও এ সময়ের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৮০০ পুকুর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এর আগে পুকুর ইজারার নামে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে অর্থ পরিশোধ না করায় অনেক পুকুরের ইজারা বাতিল করে নতুন করে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ’
এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। ’
স/আর









