সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মারকো রুবিও শুক্রবার গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করার আশা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, ইসরায়েল এই বাহিনীর অংশগ্রহণকারীদের ওপর ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। ইসরায়েল তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি রক্ষা করার জন্য এবং ইসরায়েলের কোনো বড় ধরনের নতুন সামরিক পদক্ষেপ রোধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পরপরই রুবিও ইসরায়েল সফর করেন।

দক্ষিণ ইসরায়েলে একটি বিশাল রূপান্তরিত গুদামের অভ্যন্তর থেকে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী ইসরায়েলি, মার্কিন এবং অন্যান্য পশ্চিমা বাহিনীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রুবিও দুই বছরের গাজা যুদ্ধের একটি টেকসই সমাপ্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তিতে বলা হয়েছে, হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রবেশ করবে এবং নিরাপত্তা তদারকি করবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
রুবিও বলেন, চুক্তিটিকে সফল করতে ‘স্থিতিশীলতা বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব একত্রিত হয়ে ভেতরে আসার পরিবেশ তৈরি করা’ অত্যন্ত জরুরি।
ইসরায়েল তুরস্কের অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছে বলে প্রকাশিত খবরের মধ্যে রুবিও নিশ্চিত করেছেন, এই বাহিনীর সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ভেটো ক্ষমতা ভোগ করবে।
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশই এই কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, যখন আপনারা এই বাহিনী গঠন করবেন, তখন সেই সেনাদের এমন হতে হবে যাদের নিয়ে ইসরায়েল স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।’
ন্যাটোর সদস্য ও এই অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক দেশ তুরস্কই ছিল ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অধীনে তুরস্ক হামাস নেতাদের স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক।
এরদোয়ান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেছেন, যা ইসরায়েল অস্বীকার করে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াও গাজায় সেনা পাঠাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, তারা ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিরতি তদারকিতে যুক্ত হয়েছে।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীর জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন চাইতে পারে, কারণ কিছু দেশের সেনা মোতায়েনের জন্য বিশ্ব সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অনেক কাজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং রুবিও আবারও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যতে কোনো ভূমিকা পালনের বিষয়টি নাকচ করে দেন।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে আসছে।









