রাজশাহী

গরিবের দুম্বার মাংসে ভাগ বসালো কারা?

নিউজ ডেস্ক৬ জানুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর ৯টি উপজেলার গরিব ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরণের জন্য সৌদ আরব থেকে পাঠানো দুম্বার মাংস যায় গত বুধবার সন্ধ্যার পরে। ট্রাকে করে পাঠানো মাংসগুলো বুঝে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা চেয়ারম্যানরা টের পান, প্রতিটি প্যাকেট খোলা। তার ভিতর থেকে অধিকাংশ মাংসই বের করে নেওয়া হয়েছে।

 

যেখানে অন্যান্যবার ৭-১০ কেজি পর্যন্ত মাংস থাকতো সেখানে বুধবারের প্যাকেটে ছিল বড়ো জোর দেড় কেজি করে মাংস। গরিবের হাতে পৌঁছার আগেই ট্রাকে থেকে দুম্বার মাংসগুলো কারা সরিয়ে নিল-তা নিয়ে যেমন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তেমনি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গরিব এবং দুস্থ্যদের মাঝে।

 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মোহনপুর উপজেলার গরিব ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরণের জন্য সৌদি আরবের পাঠানো দুম্বার মাংসের ৬৪টি প্যাকেট ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ট্রাকে করে পাঠানো হয়।

 

তবে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার যখন ট্রাক থেকে মাংসগুলো বুঝে নিতে যাবেন, তখন দেখেন প্রতিটি প্যাকেটই ফাঁকা। কোনো প্যাকেটের মধ্যেই এক থেকে দেড় কেজির বেশি মাংস নাই। উপায়ন্তর না দেখে ওই মাংসগুলোই বুঝে নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে সেগুলো বুঝিয়ে দেন তিনি।

 
মোহনপুরের ১ নম্বর ধূরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমি চেয়রাম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছি। সেই সুবাদে গত গত কয়েক বছর ধরে দুম্বার মাংস বিতরণ করারও সুযোগ হয় আমার। কিন্তু এ বছর মাংসের প্যাকেটে ছিল এক-দেড় কেজি করে। অথচ অন্যান্যবার প্রতিটি প্যাকেটে ৭-১০ কেজি মাংস করে থাকতো। এতে করেই বুঝা যায় প্রতিটি প্যাকেট থেকেই মাংস বের করে নেওয়া হয়েছে।’

 
ওই উপজেলার ৩ নম্বর রায়ঘাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘এইভাবে দুম্বার মাংস দিয়ে গরিবদের সেঙ্গ প্রতারণা করা হয়েছে। কারণ দুম্বার মাংস বিতরণ হবে শুনে শত শত মানুষ বিকেল থেকেই রাত আটটা পর্যন্ত শীতের মধ্যে অপেক্ষা করছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে। কিন্তু মাংসের পরিমাণ এতোই কম যে অধিকাংশকেই শেষে যেতে হয়েছে খালি হাতে। ট্রাকে থেকে মাংসগুলো আসার সময় রাস্তায় বা অন্য কোথাও প্যাকেট খুলে মাংস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে ওই চেয়রাম্যান।

 
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, এতো মাংস কিভাবে কম হলো আমরাও বুঝতে পারছি না। তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

 
এদিকে জেলার দুর্গাপুর, পুঠিয়া, তানোরসহ অন্যান্য উপজেলা খোঁজ নিয়েও একই চিত্রের কথা জানা গেছে।

 

জানতে চাইলে দুর্গাপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন ঘটনা কিভাবে ঘটলো তা বুঝে উঠতে পারছি না। ট্রাকে থকে প্যাকেটগুলো বুঝে নেওয়ার সময়ই মাংসর প্যাকেটগুলো খোলা পাওয়া গেছে। যাতে পরিমাণেও অনেক কম ছিল। এতে করে পরে মাংস বিতরণ করতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কোনো কোনো চেয়ারম্যান মাংস নিতেই চাচ্ছিলেন তাদের এলাকার গরিবদের মাঝে বিতরণের জন্য। কিন্তু শেষে বুঝিয়ে তাদেরকে মাংস দেওয়া হয়। এরপর তারা এলাকায় গিয়ে গরিবদের মাঝে বিতরণ করেন।’

 

এদিকে রাজশাহী নগরীর শিরোইল কলোনী এলাকায় বসবাকারী বিহারীদের মাঝে দুম্বার মাংষ বিতরণ করা সময় সেখানেও প্রতিটি প্যাকেটে কম মাংস দেখা যায়। এতে বিহারীদের অধিকাংশই মাংস পাননি বলে অভিযোগ করেন।

 
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। আমি নির্বাহী কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অভিযোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এটা ইসলামী ব্যাংক গ্রহণ করে গুদামজাত করেন। নামেমাত্র প্যাকেট থাকবে, মাংস থাকবে না এটা হতে পারে না। অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।