সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনির্ধারণী সম্মেলন ‘ফিফথ প্লেনাম’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা যেখানে কিছুটা দুর্বল হয়েছে, সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং নিজের ক্ষমতাকে আরো নিরঙ্কুশ ও শক্তিশালী করেছেন।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের প্রায় ১৪ বছর পরও শি চিনপিংয়ের দল পূর্ণ আনুগত্য এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে স্থানীয় নেতাদের ওপর বেইজিংয়ের রাজনৈতিক নজরদারি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিংয়ের এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এ প্রবণতার প্রভাব পড়তে পারে চীনের নতুন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিকস ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনভাবে চিন্তা করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োজনে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কিন্তু রাজনৈতিক আনুগত্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে কর্মকর্তা, গবেষক ও উদ্যোক্তারা ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে কিংবা নতুন উদ্যোগ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থকদের যুক্তি, এতে প্রশাসনিক অনিয়ম কমবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকারিতা বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চীনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা। কারণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নতুন অর্থনীতির বিকাশে শুধু রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সৃজনশীলতা, স্বাধীন গবেষণা এবং নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ।
তাই বলা যায়, শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার নীতি দীর্ঘ মেয়াদে চীনের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে সীমিত করে দিতে পারে।









