নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আজহার (কোরবানি) আসতে এখনো প্রায় মাস খানেক বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহীর পশুহাটগুলো জমতে শুরু করেছে। হাটে হাটে আসতে শুরু করেছে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু। এবারও রাজশাহী অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানির পশু থাকায় হাটে হাটে ছোট, মাঝারি আকারের গরুগুলো আসছে ব্যাপক হারে। বড় আকারের গরুগুলো আরও কয়েকদিন পরে আসবে হাটে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর তাহেরপুর হাটে অন্তত আড়াই হাজার গরু-মহিস জমা হয় বেচা-কেনার জন্য। আগামী শুক্রবারের হাটে এই সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাটের ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় গরুর হাট বসে সিটি বাইপাসে। এখানে প্রতি রবিবার-বুধবার হাট বসে। তবে ঈদের তিন-চারদিন আগে প্রতিদিনই হাট বসে। এ হাটে সর্বশেষ গত বুধবারেও কোরবানির পশুতে ভরে গিয়েছিল। ১০-১২ হাজার গরু এসেছিল হাটে।

সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের ৩০২টি হাটে আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনা-বেচা হবে। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাটে পশু কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। বাকি আছে গ্রামের কিছু হাট। এগুলোও আগামী সপ্তাহের দিকে শুরু হবে বাকি হাটগুলোও।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের দেওয়া তথ্য মতে, বিভাগের মোট ৩০২ টি পশুর হাটের মধ্যে স্থায়ী ১৬১টি এবং অস্থায়ী ১৪১টি।
এর মধ্যে রাজশাহীর সিটি বাইপাস হাটটি উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরুর হাট বলে পরিচিত। এখানে গত প্রায় ১৭ বছর ধরে সপ্তাহের দুইদিন হাট বসে। ঈদঘিরে হাটে কোরবানির পশু বিক্রির পরিধি বাড়ে আরও ব্যাপক হারে।
প্রাণিসম্পদ দফতরের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। কৃষক ও খামারিরা পর্যায়ে পশুগুলো পালন করে এরই মধ্যে বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। আবার এখনো অনেকেই পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটচ্ছেন। বিশেষ করে মোটা জাতের গরুগুলো শেষ সময়ের দিকে বেচাকেনা হয় বেশি বলে এসব গুরুর পরিচর্যায় আরও বেশি সময় দিচ্ছেন খামারি ও কৃষকরা।
রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩ গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪২, মহিষ চার হাজার ২৪০, ছাগল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩ এবং ভেড়া ৩০ হাজার ১৪৮টি। এটি রাজশাহী জেলার চাহিদার তুলনায় বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানিযোগ্য পশু বেড়েছে ৩০ হাজার ৬৯৭টি। বিগত বছরে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল চার লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬টি। এর মধ্যে গরু ৮৩ হাজার ৩৬৫টি, মহিষ তিন হাজার ৭৬৯টি ও ছাগল তিন লাখ ৪২ হাজার ৭৫৩টি।
রাজশাহীর তাহেরপুর হাটের গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির জন্য আকেউ হাটে অনেক গরু এসেছে। আগামী শুক্রবার আরও বেশি আসবে। বলা যায় ৫ হাজার ছাড়ায় যাবে।’
রাজশাহীর সিটি বাইপাশ হাটের খাটাল মালিক মতিউর রহমান জানান, কোরবানির ঈদঘিরে এখন হাটে গড়ে ৮-১০ হাজার গরুর আসছে। আর কয়েকদিন পরে সেটি ২০ হাজার ছাড়ায় যাবে। এখন ছোট আর মাঝারি আকারের গরু আসছে বেশি। কারণ মোটা গরুর চাহিদা এখনো তেমন দেখা যাচ্ছে। হাটে মোটা গরু এনে বিক্রি না হলে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েন। তাই শেষদিকে যখন চাহিদা বাড়ে, তখন মোটা গরুও আসে অনেক।’
এ হাটের ব্যবসায়ী এখন আব্দুল মালেক বলেন, এখন গড়ে ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি মাংস টার্গেট করে গরু কেনাবেচা হচ্ছে। সেই হিসেবে ৩০-৩২ হাজার টাকা মণ পড়ছে গরু। মহিসও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে শেষদিকে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।’
এদিকে গোদাগাড়ীর গরু পালনকারী আমিনুল ইসলাম জানন, তার বাড়িতে ১৪টি গরু ছিল। এগুলো সবই দেশিজাতের। এরই মধ্যে ৬টি গরু তিনি বাড়িতেই বিক্রি করেছেন। তিন মণের একটু বেশি মাংস হবে এমন আকারের গরুর চারটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি এক লাখ ১০ হাজার টাকা করে। আবার তার চেয়ে ছোট দুটি বিক্রি করেছেন ৯৫ হাজার টাকা এবং ৯৮ হাজার টাকায়।
তিনি আরও জানান, তার বাড়িতে থাকা ৮টি গরুর মধ্যে একটা আছে ৫ মণ মাংস হবে। এটি তিনি তিন লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশাবাদ করেন। তবে এই গরুর এখনো তেমন ক্রেতা যায়নি। আবার হাটেও তোলেননি তিনি। হাটে এখন ওই গরু নিয়ে গিয়ে চাহিদামতো দাম না পেলে তখন ফেরত নিয়ে যেতে হবে। তাতে লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাঁকে।
রাজশাহীর সিটি বাইপাশ হাটে ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত রোজার ঈদের কয়েকদিন পর থেকেই এবার হাটে গরু আসছে ব্যাপক হারে। সেই হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, এবার পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু আছে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে এসব গরুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ’









