নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর তিনটি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করার পর থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট কাল থেকে আরো বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে। আজ বুধবারের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সুরাহা না হলে গোটা বিভাগে এমনকি রাজশাহী ছাড়াও রংপুর বিভাগেও একযোগে ধর্মঘট শুরু করতে পারে ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার মালিকরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশনও।
- একযোগে এই ধর্মঘট শুরু হলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে ওষুধের দোকান-পাটও-এমনটিই নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা। আর এটি হলে চরম বিপর্যয় নামবে চিকিৎসাসেবায়। তবে এরই মধ্যে বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রশাসেনের পক্ষ থেকে ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অনার্স এসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা।


বিষয়টি সুরাহা হলে আজ সন্ধ্যার মধ্যে রাজশাহী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। আর সুরাহা না হলে কাল বৃহস্পতিবার থেকে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে।
- জানতে চাইলে রাজশাহী ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক অনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এসএমএ মান্নান সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, ‘আজকের মধ্যে আমাদের সমস্যা সমাধান না হলে কাল বৃহস্পতিবার থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশনও একাত্ততা ঘোষণা করেছে। প্রয়োজনে সবাইকে নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে গোটা রাজশাহী বিভাগে ধর্মঘট পালন করা হবে। তবে আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক অনার্স এসোসিয়েশনের সদস্যরা এবং বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকেই আন্দোলন নিয়ে পরবর্তি সিদ্ধান্ত হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজশাহী নগরীর চারটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানের সময় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদ উর্তীন সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, সরকারি ও ভারতীয় ওষুধ আর রিপোর্টের আগেই ডাক্তারের স্বাক্ষরযুক্ত প্যাড এবং মেয়াদ উর্তীন রি-এজেন্টও জব্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর দুইটার দিক থেকে রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর ঝাউতলা মোড়ের আমানা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এসময় মেয়াদ উর্তীন সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, সরকারি কিছু অসুধ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত মেয়াদ উর্তীন রিএজেন্ট উদ্ধার করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ওই ক্লিনিকের মালিকের তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরে লক্ষীপুরের রয়্যাল হাসপাতালে অভিযানের সময় সেখান থেকে ভারত থেকে আমদানি করা নিষিদ্ধ সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও কিছু সরকারি ও ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসময় এ প্রতিষ্ঠানটির তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর একই এলাকায় অবস্থিত ডেল্টা ডায়াগনোস্টি সেন্টার থেকে রিপোর্ট ছাড়াই ডাক্তারের স্বাক্ষরযক্ত প্যাড পাওয়া যায়। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিকের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
- একাধিক সূত্র নিশ্চিত সিল্কসিটি নিউজকে নিশ্চিত করেছে, স্বাক্ষরযুক্ত রিপোর্টের প্যাডে আগেই স্বাক্ষর করে রাখেন একজন চিকিৎসক। আর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়ায় ইচ্ছে মতো রিপোর্ট তৈরী করেন ওই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের টেকনলোজিস্টরা। এতে করে অনেক সময় ভুল রিপোর্ট দিয়ে থাকেন টেকনোলজিস্টরা। তারপরেও এভাবেই দিনের পর দিন সেখানে ডায়াগনোস্টিক রিপোর্ট তৈরী করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গতকাল ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে।
এদিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় অবস্থিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চালানো অভিযানের সময় থেকেই হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে রাজশাহীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন। এর পর থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। অনেকই আগে থেকেই ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসকদের কাছে সিরিয়াল দিয়ে রাখলেও দুপুর থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটের কারণে পরে আর চিকিৎসা না পেরেই বাড়ি ফিরে গেছেন। আবার নতুন কোনো রোগীও ভর্তি করা হয়নি গতকাল দুপুর থেকে।
স/আর









