সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বুকের উপরিভাগে গলার দু’পাশে ত্বকের কাছাকাছি দুটো হাড় থাকে। এদেরকে ক্লাভিকল বা কলারবোন বলে। এদের দৃশ্যতা ও বক্রতা নারীর সৌন্দর্য বর্ধন করে বলে হাড় দুটোকে বিউটিবোন বলা হয়ে থাকে।
কলারবোন ভাঙার কারণ
ষ সাধারণ ভাবে কাঁধের ওপর ভর দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে
ষ কাঁধে সরাসরি আঘাত লাগলে
ষ হাত বাইরের দিকে রেখে পড়ে গেলে
ষ খেলাধুলার সময় কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনায় ক্লাভিকলে আঘাত লাগলে।
উপসর্গ
ষ ব্যথা
ষ বৈকল্য
ষ হাত দিয়ে ভাঙা অনুভব করা
ষ আক্রান্ত পাশের হাত নাড়াচাড়া করতে না পারা
রোগী সাধারণত অন্য হাত দিয়ে আক্রান্ত হাতের কনুই ধরে সাপোর্ট দিয়ে থাকেন।
ষ রোগীর মাথা আক্রান্ত দিকে ঝুঁকে থাকে।
চিকিৎসা
ষ রোগীকে দিয়ে তার আঘাতপ্রাপ্ত পাশের বাহুকে সাপোর্ট দিন।
ষ গায়ের কাপড় চোপড় খুলবেন না
ষ বোগলের নিচে প্যাড দিন
ষ ঊর্ধ্ববাহুতে বুকের সাথে ব্যান্ডেজ বাঁধুন।
ষ ঊর্ধ্ব শরীরকে ত্রিকোনা স্লিং দিয়ে সাপোর্ট দিন।
যদি ফার্স্ট এইডয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি হন তাহলে ফ্যাকচার সাময়িকভাবে স্থির করার জন্য ট্রায়াংগুলার ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রোগীকে বসাবেন, তার কাঁধ দুটো পেছনের দিকে নেবেন এবং ট্রায়াংগুলার ব্যান্ডেজ শক্ত করে বাঁধবেন। দুই শোল্ডার ব্লেডের মধ্যে প্যাড ও তুলা রাখুন। হাড় নিশ্চল হলে বাহু স্লিংয়ে রাখুন।
কলার বোন ভেঙে গেলে এলবো ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন: ০১৭১৬২৮৮৮৫৫

দুর্ঘটনায় দাঁত পড়ে গেলে কী করবেন?
ডা. নাহিদ ফারজানা
মিনা গ্রামের মেয়ে। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের কাজ করতে হয়। হঠাৎ সেদিন পুকুর পাড়ে আছাড় খেয়ে উপরের সামনের দুটো দাঁত পড়ে গেল। সবাই ধরাধরি করে গ্রাম্য এক হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। সে ক্ষতস্থানে একটু সেলাই করে সামান্য কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে খেতে বলে ছেড়ে দিলো। মিনা বাড়ি চলে গেল। তার দাঁতের উপযুক্ত চিকিৎসা হয়তোবা ভবিষ্যতে আর হবেও না। কিন্তু যদি জানা থাকত যে, ওই দাঁত বসিয়ে দেয়া যায় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা করালে তার দাঁত দুটো রক্ষা করা সম্ভব ছিল তাহলে হয়তো এমনটি নাও হতে পারত।
প্রতিনিয়ত আমরা নানা ধরনের সমস্যা ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই। নানা রকম দুর্ঘটনায় আমরা অনেক সময় দাঁত হারিয়েও ফেলি। কিন্তু যদি দেখা যায় ওই দাঁতটি মূলসহ ভালো আছে এবং সাথে সাথে তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হই, তবে দাঁতটি মুখে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা সম্ভব।
কোথায় বেশি হয়?
দুর্ঘটনায় সাধারণত উপরের চোয়ালের সামনের দাঁতগুলো বেশি আক্রান্ত হয়।
নিচের দাঁতে এই আশঙ্কা উপরে দাঁতের তুলনায় কিছুটা কম।
সদ্য ওঠা দাঁতগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। কারণ এ সময় দাঁতের পেরিওডন্টাল লিগামেন্ট (দাঁত ও হাড়ের সংযোগুলো সংযোজন কলা) আগলাভাবে লাগানো থাকে যা ধীরে ধীরে স্থায়ী হতে পারে।
প্রতিকার ও প্রতিরোধ
দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ডেন্টাল সার্জনের কাছে পৌঁছার আগে কিছু করণীয়-
যদি দেখা যায় দাঁতটি সম্পূর্ণ আছে অর্থাৎ গোড়ার কোনো অংশ ভেঙে যায়নি এবং মাত্র পড়ে গেল, সে ক্ষেত্রে দেরি না করে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে দাঁতটি হালকাভাবে ধুতে হবে।
এ সময় দাঁতটিকে জিহ্বার নিচে, দুধে, পানিতে, অথবা ভেজা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখা যাবে।
দাঁতটির সংযোজন কলা শুকিয়ে গেলে তখন তাকে সংরক্ষণ করা যাবে না তাই শুকাতে দেয়া যাবে না।
দুধ, পানি বা জিহ্বার নিচে রাখলে দাঁতের সংযোজন কলা জীবিত থাকে। ফলে সংরক্ষণ করতে সুবিধা হয়।
ডেন্টাল সার্জনের কাছে পৌঁছানোর পর করণীয়
একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের কাছে গেলে তিনি তখন দাঁতের অবস্থা, রোগীর মুখের অবস্থা এবং সময় ইত্যাদি বিবেচনা করে উপযুক্ত চিকিৎসা দেবেন। যদি দেখা যায় সবকিছু ভালো আছে, তবে দাঁতটি নরমাল স্যালাইন দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রোগীর দাঁতের সকেটে ঠিকভাবে বসিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও স্প্রিন্টিং করে দু’সপ্তাহ পর দাঁতের এক্স-রে করে দেখতে হবে। যদি দেখা যায় কোনো ইনফেকশন নেই তাহলে রুট ক্যানেল করে ক্যাপ বসিয়ে দিলে দাঁতটি মুখে সুন্দরভাবে ধরে রাখা সম্ভব।
দাঁত পড়ে গেলেই তা ফেলে দিতে হয় না। একটু বুদ্ধি করে তাকে প্রাথমিকভাবে সংরক্ষণ করে অতঃপর ডেন্টাল সার্জনের কাছে গেলে তিনি তার উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন। তবে যদি দেখা যায় দাঁতটি অনেকক্ষণ যাবৎ শুকনা অবস্থায় আছে সংযোজন কলা নষ্ট হয়ে গেছে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করবেন।









