তারেক মাহমুদ :
রাজশাহী অঞ্চলে শীতে প্রায় সব ধরণের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এর সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে সবজির দামও। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কামছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর কয়েকটি সবজির দাম অপরিবর্তত রয়েছে। শুধু সবজির দামই নয় কমতে শুরু করেছে মাছেরও দাম। বাজারে কার্প জাতীয় মাছের দামও কমে এসেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা । কিন্তু অন্য মাছের দামে তেমন প্রভাব পরেনি।
এদিকে শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটো নতুন আলু এবং ফুল কপির ব্যাপক আমদানি হওয়ায় সবজির দাম কমেছে। মাছের বাজারে ক্রেতাদেরও আনাগোও অন্যে সময়ের থেকে একটু কম। আর আমদানি স্বাভাবিক থাকায় মাছের দাম বলে মনে করছেন বিক্রিতারা। বিক্রেতারা বলছেন, শীতে খাল বিলের এবং নদীর পানি কম থাকায় দেশিয় জাতীয় মাছের আমদানি কম হচ্ছে।
নগরীর সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা ইয়াসিন আলী সিল্কসিটিনিউজকে জানান, গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহে বাজারে সবজির আমদনি অধিক হারে বেড়েছে । গত সপ্তাহে আলুসহ পেঁয়াজের দাম বেশি থাকলেও এ সপ্তাহে তা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে নতুন শিম বরবটি এবং ২-৩ সবজির দাম গত সপ্তাহের মতই আছে।
তিনি জানান, বর্তমানে সাহেববাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪০ টাকা, কচুর লতি ২৫ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩২ টাকা, আলু ২২ টাকা, শশা ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, পটল ২৫ টাকা এবং মুলা ৮ থেকে ১০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, কুরিকচু ২৫ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়াস ৩০, শিম ৬০, ফুলকপি ৩০ টাকা,কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫ টাকা, গ্জর ৪০ থেকে ৪৫টাকা, এবং লাউ প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা আর কুমড়া জালি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, আগের থেকে শীত একটু বেশি পড়ায় মাঠে শীতের সবজিগুলো বেশি উৎপাদন হচ্ছে এবং এক সাথে ফুল কপি বাঁধাকপি মূলা নতুন আলু এবং নতুন শাকের আমদানি হওয়ার ফলে দাম গত সপ্তাহের থেকে অনেক কমেছে।
এদিকে মুদি ব্যবসায়ী রানা জানিয়েছেন, মুদি বাজারে বর্তমানে ডালের একটু বেড়েছে বাঁকি সব গত সপ্তাহের মতই রয়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৪ টাকা, রসুন ১৭০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ খেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতি ১০০ গ্রাম ২৪ টাকা ,হলুদ ১৮ টাকা, জিরা ৪০ টাকা, ধনিয়া ১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরবারহ আগের থেকে দ্বিগুন থাকায় দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে শাকের বাজার শাক ব্যাবসায়ী সালাম জানান, শীতের সবজির সাথে সাথে শাকের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতের মৌসুমি শাকের উৎপাদন বাড়ায় সব শাকের দাম কমেলেও বেড়েছে সবুজ শাক ও লাল শাকের।

নতুন শাক হিসাবে বাজারে উঠেছে খেশারির শাক তবে আমদানি কম হওয়াই দাব একটু বেশি বলে জানান ক্রেতারা। প্রতি কেজি খেসারির শাক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি লাল শাক ২০ টাকা, সরিষা শাক ১২ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, কচু শাক ১২ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, পুই শাক ২০ টাকা এবং পালং শাক ১২টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আইনুল জানান,কার্প জাতীয় মাছ বাদে দেশি এবং নদীর মাছের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর শুক্রবার ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। আর নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়াই মাছের আমদানি অনেক কম হলেও শীতে সবাই মাছ কম খায় আর জানালেও ক্রেতার সংখ্যা একটু কম থাকে।
বর্তমানে বাজারে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৭০ থেকে ৩০০টাকা, চিতল ৬০০ থেকে ৬৫০, রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ থেকে ১২০ টাকা,পাঙ্গাস ১০০ থেকে বাটা ১৫০ টাকা, টেংরা ৬৫০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৬০০ও হাইব্রিট কই ১৫০ টাকা, শোল মাছ ৫৫০ টাকা, মৃক্রা ৩৩০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা এবং মিরর কার্প ১৮০ টাকা তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পুকুর ও দিঘি থেকে সংগৃহীত মাছের দাম একটু স্বাভাবিক থাকলেও নদী ও দেশি প্রজাতির মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে নদীর বড় চিংড়ি ৫০ ০টাকা ও ছোট চিংড়ি ২৫০ টাকা, পিউলি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় কাটাপাতাসি ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, ঢেড়ে মাছ ৫০০টাকা, পাবদা ৬০০টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, বাছা মাছ ৬০০ এবং রিঠা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও আইড় ৫৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৩০ টাকা, গুচি মাছ ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মায়া ৪২০ টাকা। বাজারে এ সপ্তাহে পদ্মার একটু বড় সাইজের ইলিশ উঠায় দাম টা ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার ও বরিশালের বড় আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাহেব বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা সৈকত হাসান জানান, গত সপ্তাহের থেকে আজ প্রত্যেক মাছের দাম একটু কম মনে হচ্ছে তবে আম্মু আজ বাজারের বড় ইলিশ কিনতে বলেছে । কিন্তু বড় ইলিশ তো আকাশ ছোঁয়া দাম দেড় কেজি ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি।
এদিকে স্বাভাবিক রয়েছে মুরগির বাজার। গত সপ্তাহের মতই এই সপ্তাহে মুরগির বাজার একই রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। মুরগি ব্যবসায়ী সবুর হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, গত সপ্তাহের মত এ সপ্তাহে মুরগির দাম একই আছে। সাদা কক বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭০ টাকা, ব্রয়লার ১২৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ এবং হাঁস ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে।
এদিকে ডালের বাজারে গিয়ে ডাল ব্যাবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, এ সপ্তাহে ডালের দাম স্বাভাবিক থাকলেও কালাই এবং মসুর ডালের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, কলাই ডাল ৮৫থেকে ১২০ টাকা, ছোলা ডাল ১২৫ টাকা, খেসারি ডাল ৭৮ থেকে ৬৫ টাকা, মটর ডাল ১৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, লবন ৪০ টাকা, আটা ২৪ টাকা, পোলাও চাল ১১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স/তা









