শফিক আজম:
হলুদিয়া নাকি মঙ্গলা কি নাম দেব তোর
তোরে দেখে হই কেন স্বপ্নে বিভোর
মনের মাঝে কেন শুধু তোর ছবি আঁকি
বলনা আমায় পাখি তোরে কি নামে ডাকি।
পাখি। সৌন্দর্যের রুপ রেখায় ফুলের পরেই আসে পাখির নাম। সুন্দর পাখি কে না পছন্দ করে। দু’ডানা মেলে যখন নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় নিজের খেয়াল খুশি মতো, তকন তাদের দেখে কে না হিংসে করে। এমন কে আছে যে শৈশব থেকে এ পর্যন্ত একবারের মতো চাইনি নিজের খেয়াল খুশি মতো অচেনা ভূবনে উড়তে। স্বভাবতই আমরা যখন খুব সুন্দর পাখিকে এক সাথে বসে থাকতে দেখি, আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়। এমনকি শীতের পাখি দেখতেও দূর দূরান্ত থেকে ছুটে যাই। কারণ সেখানে এমন কিছু অজানা সুন্দর পাখি থাকে যা আমাদের বিমোহিত করে।
এমন অনেক অজানা অচেনা আর সুন্দর পাখির উৎসব বসেছে রাজশাহীতে। নগরীর রেলগেট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে আয়োজিত এ পাখি প্রদর্শনীতে রয়েছে বিদেশী দুর্লভ প্রজাতির শত শত পাখি। আর প্রদর্শনীর শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করেছে পাখিপ্রেমীদের ভীড়।

প্রদর্শনী নয় এ যেন চিড়িয়াখানা। রং বেরংয়ের সাজ আর মিষ্ট মধুর ডাক। এনিয়ে পাখিরাই যেন মাতিয়ে রেখেছে পুরো প্রদর্শনীকে। একেক পাখির একেক ডাক। প্রদর্শনীতে ঢুকতে গিয়েই যেন এ ডাকে আমার কাছে আসো ও বলে আমাকে দেখ। আবার অনেকেই মনে হয় চেঁচিয়ে বলে মুক্তির কথা।

প্রদর্শনীর আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির পাখি রয়েছে যা অনেকেই অনেক বছর ধরে সংগ্রহ করে রেখেছেন। বাংলাদেশে এদের বংশবিস্তার করে দেশে বিদেশী পাখির প্রসার লাভ করার জন্য। তবে সবাই এসব পাখি পোষেন শখের বসেই। এসব পাখি দেখতে অনেক সুন্দর হয়। তবে এরা খুব বেশি উঁচুতে উড়তে পারে না বলে এদের খাচায় রাখা হয়। আর সেই সাথে অন্য পাখিদের আক্রমনের ভয় তো আছেই।

এবার জানা যাক প্রদর্শনীতে রাখা পাখির নামগুলো। প্রদর্শনীতে মেক্সিকোর সাদা টার্কি, কালো টার্কি, কুনুর, বাজরিকা, র্যাম, বাজরিকা,সাদা কোয়েল, কাকাতুয়া, ফোরপাশ, ব্ল-মাছ, লুটিনো লাভ বার্ড, লুটিনো অফলাইন, ভাইলো, সাদা ঘুঘু, ডায়ামান্ড ঘুঘু, ককটেল, রোজিলা, ইয়োলো ফিসার, বাজরিগার, হল্যান্ডের ককাটে, অষ্ট্রেলিয়ার বেঙ্গল, কাকঠোট। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ প্রজাতির কবুতর।

কেইজ বার্ড এসোসিয়েশন অব রাজশাহী (সিবিএআর) এর নির্বাহী সদস্য আলী হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আমি তখন ছোট। ঢাকায় এক বড় ভাইয়ের কাছে পাখি দেখে পোষার অনেক শখ হলো। সেই সময় ৩০০ টাকা দিয়ে এক জোড়া পাখি কিনলাম। এরপর তাদের বংশ বিস্তার হতে থাকলো। আমি খাচার সংখ্যা বাড়ালাম। অন্য প্রজাতির পাখি ক্রয় করতে গিয়ে নিজের কিছু পাখি বিক্রয় করলাম। এভাবেই ২২-২৩ বছর ধরে পাখি নিয়েই চলে আমার ব্যস্ততা।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে হল্যান্ড, জাপান কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ম্যাক্সিকো থেকে বেশ কিছু প্রজাতির পাখি আনা হয়েছে। বিক্রির উদ্দেশ্যে নয় তবে আমরা বাইরে এসব পাখি কিনে থাকি বিক্রি করে থাকি। ভালো লাগা থেকে শুরু এখন এটা ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে।

জানতে চাইলে সদস্য আন্দালিব এমদাদ সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, আমার সংগ্রহে বেঙ্গল, কাটঠোট পাখি আছে। এরা খুব শান্ত স্বভাবের হয়। সাইজে অনেক ছোট হলেও এরা প্রায় একই প্রজাতির। খাচায় রাখলে ৬-৭ টি করে সারাবছর ডিম দেয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এরা প্রজননের আগে খুব সুন্দর করে গান গায়।
রং বেরঙ্গের এসব পাখি দেখে পাখি প্রেমীরাও বিমোহিত। অনেকেই আসছেন কন্ঠ শুনতে, অনেকে রং দেখতে । আবার অনেকেই পছন্দের পাখিটির সাথে নিজেকে ফ্রেম বন্দি করতে। প্রদর্শনীতে শিশুদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।

শিশু সৌরভের ভাষ্যে, পাখি গুলো অনেক সুন্দর। আমার অনেক ভালো লেগেছে। লাভবার্ডগুলো আর ককাটে পাখি অনেক ভালো লেগেছে।

সৌরভের বাবা সামিরুল ইসলাম সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, কোচিং ছুটি হলে বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম পাখি প্রদর্শনী। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। এসব পাখি তো দেশে দেখা যায় না। শুধু টেলিভিষনেই দেখা যায়। পরবর্তীতে সংগ্রহ করার ইচ্ছে আছে।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী জিয়াউল হক সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, পাখি হলো ভালোবাসার অপর এক নাম। আমাদের দেশী পাখি অনেক ভালো লাগে কিন্তু বিদেশী পাখিগুলোও অনেক সুন্দর। এখানে এসে বোঝা গেল সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে আমাদের দেশে অনেকেই এই পাখি দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
পাখি নিয়ে ভাবনার অনেক বাণী আছে। কেউ পাখিকে ভালোবেসে মনে বাধিয়ে নেয়, আবার কেউ এই পাখি খাঁচায় ভরে বাসায় রেখে দিয়ে নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন। তবে শখের বসেই হোক আর ব্যবসার কারণেই হোক পাখি নিয়ে ভালোবাসার যেন কমতি নেই কারোরই। নগরীর দুদিনব্যাপী এ পাখি প্রদর্শনী চলবে শনিবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত।
স/শ









