নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে পাঁচজন নারী ও শিশু ধর্ষণে শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চারজন শিশু ও একজন নারী। এ সব ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ নগরীর ষষ্ঠীতলা ও গোদাগাড়ীর মিলে দুই ঘর্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আর বাকি গুলোর মামলা হলেও তাদের আটক করতে পানেনি পুলিশ।

শুধু তাই নয়, ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে শিশুই বেশি। আর এই শিশুদের মধ্যে চার বছরের শিশু দুইজনসহ বিভিন্ন বয়সের শিশু রয়েছে।
এ ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে বুধবার রাত ৮টার দিকে পুঠিয়া ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সোহান নামের এক জেএসসি পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সোহান উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের সাইফুলের ছেলে ও স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানায়, সোহান শিশুটিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার বাড়ির কাছের ব্রাক স্কুলের পিছনে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়।
শিশুটিকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমম্পেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় একটি ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানায়, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই দিনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করায় শহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে গোদাগাড়ীর বালিগ্রামে বাড়িতে ঢুকে শহিদুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। আটক শহিদুল ইসলাম উপজেলার দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং জাহানাবাদ গ্রামের দাউদ আলীর ছেলে।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী একই স্কুলে পড়াশোনা করে। বুধবার রাতে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা পাশের গ্রামে জালশা শুনতে যান। বাড়িতে ওই ছাত্রী একা ছিল। এ সুযোগে শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ তার ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই ছাত্রী কৌশলে শিক্ষককে ঘরের ভেতর আটকে রাখে। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে গেলে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।
গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি জানান, ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সকালে শিক্ষক শহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে নির্যাতিত ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য (রামেক) হাসপাতারে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার রাজশাহী মহানগরীতে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাহিদ (৪০) নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক জাহিদ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সাদিপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। জাহিদ পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। ওই সুবাদে সে নগরীর ষষ্ঠিতলা এলাকায় একটি বাড়িতে কাজ করছিলে সাকিব।
বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছেন। এঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একই দিনে মোহনপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাষ্টার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে বাদেজোল গ্রামের জনৈক এর মেয়ে বাদী হয়ে শিক্ষককে আসামী করে মোহনপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মোহনপুর উপজেলার ধূরইল ইউনিয়নের জনৈক এরমেয়ের সাথে একই ইউনিয়নের মহব্বতপুর মজলিসবাড়ী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোফাজ্জল হোসাইন সাথে দেড় বছর থেকে মন দেওয়া নেওয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে গত ২০ অক্টোবর বেলা ৩ টার দিকে মোবাইল ফোনে শিক্ষক মোফাজ্জল হোসাইন নিজ বাড়ীতে ছাত্রীকে ডেকে নেয়।
বাড়ীতে তার পরিবাবের লোকজনের অনুপস্থিতে ছাত্রীকে কৌশলে শিক্ষক মোফাজ্জল হোসাইন তার শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ছাত্রী বাধা দিলে সে এলোপাথাড়ী ভাবে মারপিঠ করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে শিক্ষক মোফাজ্জল পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পল্লী চিকিৎকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরে মোহনপুর স্বাস্থ্য কমম্পেক্সে ভর্তি করে।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।
গত শুক্রবার রাজশাহী পবায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতেই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আজ সোমবার বিকেলে শিশুটিকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাঠালবাড়িয়া এলাকার চার বছরের এক শিশুকে মোবাইল ফোন দেবে বলে গত রোববার দুপুর বেলায় বাড়ির পাশের একটি জমিতে ডেকে ধর্ষণ করে নিয়ে গিয়ে একই এলাকার রুহুল আমিন নামের এক যুবক । রোববার রাতে মেয়ে বাবা সাদাত আলী বাদি হয়ে পবা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করলে রাতেই আসামি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।
পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানায়, মেয়ের বাবার মামলার প্রেক্ষিতে আসামি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট এসিডির তথ্য মতে গত অক্টোবর মাসে রাজশাহী অঞ্চলে ৪০জন নারী শিশু নির্যাতনের শিক্ষার হয়েছে। এর মধ্যে ২২জন নারী ও ১৮ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নগরীর চারটি থানায় সংগঠিত হয়েছে ১০টি। নগরীর বাইরের নয়টি থানায় সংঘটিত হয়েছে ১২টি। হত্যার চেষ্টা ২টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১টি, যৌন হয়রানী ৩টি। শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১৮টি। হত্যা ১টি, হত্যার চেষ্টা ১টি, ধর্ষণ ৫টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১টি, যৌন হয়রানী ৩টি।
অন্যদিকে, উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) জেলায় গত অক্টোবর মাসে ১৪জন নারী ও ১৪ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নগরীতে কলেজ ছাত্রীকে অপহরন করে ধর্ষণের অফিযোগ উঠেছে আপন ফুপার বিরুদ্ধে, পবায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ, নগরীতে ৪ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ। এর মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও নির্যাতন ১২।
লফসের নির্বাহী পরিচালক শাহনাজ পারভীন বলেন, রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশজনক। সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না। সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতনসহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দিষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
স/আ









