ধর্ম

ইসলামে প্রেম-ব্যাধির আরোগ্য

নিউজ ডেস্ক২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বয়সের একটি ধাপ অতিক্রম করলে তরুণ ও তরুণীদের ভেতর প্রেমে পড়ার প্রবণতা তৈরি হয়; কিন্তু এই প্রবণতা তাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলাম তরুণ-তরুণীদের এই বিপজ্জনক প্রবণতা রক্ষার পথ ও পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো—

প্রেমের পরকালীন ক্ষতি

প্রেমের প্রধান ক্ষতি হলো স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে সৃষ্টির চিন্তায় মগ্ন হওয়া। ফলে সে আল্লাহর পরিচয় লাভ, অন্তরে তাঁর ভয় সঞ্চার ও তাঁর নৈকট্য থেকে বঞ্চিত হয়।

এরপর সে প্রেমের লক্ষ্যগুলো যত বেশি অর্জন করে তার পরকাল তত বেশি ধ্বংস হতে থাকে এবং সে জাহান্নামের তত বেশি উপযুক্ত হতে থাকে। সে তার মনোবাসনার যত কাছে পৌঁছবে, তাঁর মহান মালিক থেকে তত দূরে সরে যাবে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অবৈধ প্রেমের খুব কম সম্পর্কই বৈধতার স্তরে পৌঁছে। আর যেগুলো পৌঁছে তা খুব বেশিদিন টেকে না।

প্রেমের জাগতিক ক্ষতি

জাগতিক বিচারেও প্রেমের ক্ষতি খুব কম নয়। কেননা তা মানুষকে স্থায়ী চিন্তা ও দুশ্চিন্তা, সন্দেহ-সংশয়, অনিদ্রা, ক্ষুধামান্দ্য, রাত জাগরণ ইত্যাদি বিষয়ের ভেতর ঠেলে দেয়, যা ব্যক্তির দেহ ও মনের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলে। এসব অভ্যাসের কারণে চেহারার লাবণ্য কমে যায়, মনে অবসাদ তৈরি হয়, কর্মস্পৃহা কমে যায়, ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বোধ থাকে না। আর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানো, আত্মহত্যা, হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ইতিহাসও পৃথিবীতে বিরল নয়।

প্রেম-ব্যাধির আরোগ্য

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম-ব্যাধির চিকিৎসাগুলো তুলে ধরা হলো—

১. দৃষ্টি অবনত রাখা : বেশির ভাগ সময় প্রেমের সূচনা হয় চোখের ভালো লাগা থেকে। চোখের ভালো লাগা অন্তরে বসে গেলে প্রেম-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। তাই মুমিন তরুণ-তরুণীর দায়িত্ব হলো নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখা। পবিত্র কোরআনেও মুমিনদের প্রতি সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম।

তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)
এমনকি কেউ যদি প্রেমে পড়েও যায়, তবু প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখার উপকার অনেক। কেননা তা ব্যক্তির মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ করে, অন্তরের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে এবং বিপরীত ব্যক্তিকে হতাশ করে।

২. পরিণতি চিন্তা করা : প্রেমের ইহকালীন ও পরকালীন মন্দ পরিণতি চিন্তার মাধ্যমে ব্যক্তি প্রেমের ব্যাধি থেকে বাঁচতে পারে। সাধারণত ইহকালে ও পরকালে প্রেমের পরিণতি হয় ধ্বংসাত্মক। পার্থিব জীবনে ব্যক্তিত্ব, মান-সম্মান ও ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা নষ্ট হয়। আর অবৈধ প্রেমের প্রতি আচরণে পরকালে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত হয়, বিশেষত প্রেম-ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি চিন্তা করবে আল্লাহ সর্বক্ষণ আমাকে দেখছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘চোখের অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্পর্কে তিনি অবহিত।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ১৯)

৩. দূরে চলে যাওয়া : যখন কারো প্রতি অন্তরে অবৈধ প্রেম অনুভূত হয়, তখন যথাসম্ভব দূরে সরে যাওয়া আবশ্যক। যেন তার কথাবার্তা, চলাচল, আলোচনা ইত্যাদি দৃষ্টিগোচর না হয়। দৈহিক দূরত্ব একসময় মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে অশ্লীলতার কাছেও যেয়ো না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫১)

৪. প্রেম পরিহারে সওয়াবের আশা : ব্যক্তি প্রেম পরিহারের চেষ্টার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করতে পারে। কেননা কার্যত সে পাপ পরিহার করছে। আর হাদিসে পাপ পরিহারের বহু পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে আর আল্লাহর জন্য কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং আল্লাহর জন্য দান করে আর আল্লাহর জন্য দান থেকে বিরত থাকে, সে ঈমান পূর্ণ করেছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮১)

৫. আল্লাহর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়া : মুমিন মাত্রই আল্লাহকে ভালোবাসে। আর আল্লাহর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে সে অন্যকে ভালোবাসে বা ঘৃণা করে। বান্দার অন্তর আল্লাহর স্মরণ ও ভালোবাসা ভরপুর থাকলে সে অবৈধ প্রেমে লিপ্ত হতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর ভালোবাসায় সুদৃঢ়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬৫)

আল্লাহ সবাইকে পৃথিবীর মোহ-মায়া ও অবৈধ প্রেম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।