সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কেমন আছেন?
এই তো ভালো আছি। তবে একটু নার্ভাস লাগছে। বড় পর্দায় নিজেকে দেখব। সেখানে ভালোটা যেমন বেশি চোখে পড়ে, তেমনি ভুলগুলোও চোখে পড়ে।

তাই এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। মনে হচ্ছে কাল যেন ঈদ!
প্রথম দিনের পরিকল্পনা কী?
দু-একটি চ্যানেলে ইন্টারভিউ আছে। এ ছাড়া হল ভিজিটে যাব। ঢাকার একাধিক প্রেক্ষাগৃহে ঢুঁ মারার ইচ্ছা আছে।
দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখব।
কদিন ধরে প্রচারণা করছেন; কিন্তু আপনার নায়ক [সাইমন সাদিক] পাশে নেই। তাকে মিস করছেন?
প্রচণ্ড মিস করছি। আমার আগের দুই ছবি মুক্তির সময় নায়ক, সহশিল্পী সবাই পাশে ছিলেন।
ফলে সে সময় চাপটা অত বুঝতে পারিনি। কিন্তু এবার আমি একা। সাইমন বিদেশে, দিনার ভাইও [ইন্তেখাব দিনার] শুটিংয়ে। সবখানে তাই আমাকেই ছুটতে হচ্ছে, ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছে। সবার প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি শেষ।
নায়কের সঙ্গে আলাপ হয়নি?
মেসেজ বিনিময় হয়েছে। সেও খুব এক্সাইটেড। তবে দুজনের টাইম জোন তো একদমই আলাদা। ফলে ফোনে কথা বলার সুযোগ হয়নি।
‘সাইলেন্স’-এ কিভাবে যুক্ত হয়েছিলেন?
‘শ্যামা কাব্য’ মুক্তির কিছুদিন আগে যুক্ত হওয়া। যদিও আরো অনেক আগে থেকেই কথা হচ্ছিল। ইমন ভাইয়ার সঙ্গে বেশ আগে থেকে পরিচয়। আমার প্রথম ছবি ‘গহীন বালুচর’ এবং দ্বিতীয় ছবি ‘শ্যামা কাব্য’ দুটোরই মিউজিক করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তো তিনি আমাকে একটি গল্প শোনান, শর্টফিল্মের জন্য। গল্পের চরিত্রের সঙ্গে আমাকে উপযুক্ত মনে হয়েছে তাঁর। পরে তো গল্পের পরিসর বাড়িয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি করা হয়েছে। একদিকে গল্প আমার খুব ভালো লেগেছে, আর ইমন ভাইয়ার প্রথম ছবিতেও থাকতে চেয়েছিলাম। এভাবেই ছবিটি করা।
আমার আগের দুই ছবি মুক্তির সময় নায়ক, সহশিল্পী সবাই পাশে ছিলেন। ফলে সে সময় চাপটা অত বুঝতে পারিনি। কিন্তু এবার আমি একা। সাইমন বিদেশে, দিনার ভাইও [ইন্তেখাব দিনার] শুটিংয়ে। সবখানে তাই আমাকেই ছুটতে হচ্ছে, ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছে
ছবিতে আপনি একজন কণ্ঠশিল্পী। এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিভাবে?
প্রচুর ছবি দেখেছি। ইমন ভাইয়ার কাছ থেকে অনেক পরামর্শ নিয়েছি। একতারা বাজানো শিখেছি, নাচও কিছুটা শিখতে হয়েছে। এ ছাড়া অভিনয়ে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। কারণ দুটো ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছি। ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি পরা গ্রামের খুব সাধারণ এক বাউলকন্যা থেকে শহুরে জীবনের তারকা গায়িকা; দুটোর মধ্যে বিশাল ফারাক। দুটোতে সমন্বয় করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে।
মাত্র এক সপ্তাহের ঘোষণায় ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। এমন তাড়াহুড়া না করে আরেকটু সময় নেওয়া যেত না?
আমিও অবাক হয়েছি। ইমন ভাইয়া দেশের বাইরে ছিলেন। রিলিজের ব্যাপারে বললেন। আমি সেভাবে সিরিয়াসলি নিইনি। কারণ আগেও মুক্তির ব্যাপারে আমাদের কথা হয়েছিল; কিন্তু সেটা ক্যানসেল হয়েছে। এবার তিনি দেশে এসে বললেন, সত্যিই মুক্তি দেবেন। সব প্রস্তুতি নিয়ে তারিখও ঘোষণা করলেন। তিনি দেশে এসেছেন, আবার চলে যাওয়ার তাড়া আছে; সবদিক বিবেচনা করেই তারিখটা ঠিক করেছেন। ইটস ওকে। মুক্তি পাচ্ছে, এটাই বড় আনন্দের। তবে হ্যাঁ, আরেকটু সময় পেলে আরো ভালোভাবে প্রচার করা যেত।
ছবিতে আপনার দুই রূপ; একদিকে গ্রামের বাউলশিল্পী, আরেকদিকে শহুরে আধুনিক কণ্ঠশিল্পী। বাস্তব জীবনে আপনি কোন ধরনের গান শুনতে ভালোবাসেন?
আমি ইন্টারন্যাশনাল গানগুলো শুনতে পছন্দ করি। রক না, একটু হালকা মিউজিকের, ঠাণ্ডা মেজাজের গান। আমার প্রিয় শিল্পী বিলি আইলিশ। তার মানে বাউল গান খারাপ, তা মোটেও বলছি না। আমার ভালোলাগার কথা বললাম আরকি।
আর কী করছেন?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘রুখসার’ করছি, অনেকখানি শুটিং হয়ে গেছে। আর এক লটে সম্পন্ন হয়ে যাবে। এস এম কাইয়ুমের ‘অন্তর্বর্তী’ ছবিতে অভিনয় করেছি। সেটার শুটিং, ডাবিং, পোস্ট প্রডাকশন সবই সম্পন্ন। কেবল মুক্তি বাকি। এ ছাড়া সম্প্রতি ছয়-সাতটি নাটক করেছি, রিলিজের অপেক্ষায়।
অনেকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর আর নাটক করতে চান না। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?
আমি মাধ্যম নিয়ে চিন্তা করি না। অভিনয়টা খুব ভালোবাসি। সবখানেই কাজ করতে চাই। নাটকে সময় কম থাকে, কষ্টটা বেশি করতে হয়। সিনেমায় আরাম পাই। কারণ সময় বেশি পাওয়া যায়। সে জন্য মাঝেমধ্যে নাটক কমিয়ে দিই। আসলে নাটক থেকেই তো আমার উঠে আসা, এটা ছাড়ব না।
‘সাইলেন্স’ প্রসঙ্গ দিয়েই শেষ করি। পর্দায় তো আপনি শিল্পী, বাস্তবে গাইতে পারেন?
না, আমি একদমই গাইতে পারি না [হা হা হা]। আমার গানের গলা মোটেও ভালো নয়।









