রাজশাহী

‘আত্মহত্যা করতে পারেন রাউধা’ মানতে পারছেন না পরিবার

নিউজ ডেস্ক১ এপ্রিল ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রী ও মডেল রাউধা আথিফ (২০) আত্মহত্যা করতে পারেন বলে মনে করছেন না তার পরিবারের লোকজন। তার বাবা-মায়ের দাবি, রাউধা আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি যেহেতু এখনো তদন্তাধিন, কাজেই এর বেশি কিছু বলতে চাইছেন না তারা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন তারা।

 

এদিকে রাউধার মৃত্যুর পর রাজশাহী মহানগর পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। রাউধার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেট ও ল্যাপটপটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে আইফোন মোবাইলটির লক এখনো খুলতে পারেনি পুলিশ। এর জন্য বিশেষজ্ঞদের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এদিকে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে  রামেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাউধার লাশ তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেখতে রামেক মর্গে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিল রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ, মা আমিনাথ মুহারমিমাথ, ভাই, এক বোনসহ (কাজিন) নিকটাত্মীয়রা। সব মিলিয়ে রাউধার লাশ দেখতে ১০-১২ জনের একটি দল মর্গে যায়। তারা গত বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে এসে পৌঁছান।

 

এদিকে গতকাল দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ ও মা আমিনাথ মুহারমিমাথ কাছে বলেন, ‘আমাদের মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। এটা আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। সে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়। হয়তো সে মানসিকভাবে কিছু ডিপ্রেশনে ভুগছিল বলে শুনেছি। তবে আত্মহত্যা করবে, এটা মানা যায় না। ’

 

রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ বলেন, ‘আত্মহত্যার আগের দিন রাত ১১টার দিকে রাউধার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু তখনো মনে হয়নি, সে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে যেহেতু এখনো তদন্ত চলছে, কাজেই এর বেশি কিছু আমরা বলতে চাই না। ’

 

এক প্রশ্নের জবাবে রাউধার মা আমিনাথ মুহারমিমাথ বলেন, ‘সে কেন আত্মহত্যা করবে এর কোনো কারণ আমাদের জানা নেই। ’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাকে কেন হত্যা করা হবে, সেটিও আমরা বলতে পারব না। তবে আমাদের মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। ’

 

নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রাউধা আত্মহত্যা করেছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এর পেছনের সম্ভাব্য সব কারণ অনুসন্ধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এমনকি কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষার্থীদের কোনো আচরণ তাঁকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিল কি না, সেটিও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে কারো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ’

 

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাউধা আথিফের (২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায়। এ সময় তাঁর সহপাঠীরা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দ্রুত রাউধাকে নিচে নামায়। তবে ততক্ষণে তিনি মারা যান। রাউধা ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত বছর জানুয়ারিতে মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে। তাঁর বাড়ি মালদ্বীপে এবং তিনি আন্তর্জাতিক মডেল ছিলেন। ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ ২০১৬-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রচ্ছদে রাউধার ছবিও প্রকাশ করে।

স/আর