জাতীয়

আইএমএফের চাপ সত্ত্বেও খাদ্যে ভর্তুকি বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক২১ মার্চ ২০২৪৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

মূল্যস্ফীতির বড় চাপ নিয়েই আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ করছে অর্থ বিভাগ। এ ক্ষেত্রে মানুষের কষ্ট লাঘবের বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে খাদ্যে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে, যদিও ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ রয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খাদ্যে ভর্তুকি প্রদানের বিকল্প নেই। এখানে ভর্তুকি দিতেই হবে। কারণ এ ভর্তুকি সুবিধা সরাসরি নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের কাছে পৌঁছায়। তবে সেখানে ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তা নাহলে প্রকৃত মানুষ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

জানা গেছে, জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আসন্ন বাজেটে খাদ্য খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ভর্তুকির মাধ্যমে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের উচ্চমূল্যের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রত্যাশা করে আসছে বাংলাদেশের বাজেটে ভর্তুকি কমে আসুক, তা না হলেও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক হোক। ভর্তুকি কমিয়ে সে অর্থ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী খাতে ব্যয়ের পরামর্শও দিয়ে আসছে বৈশ্বিক সংস্থাটি।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্য খাতে ভর্তুকি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের খাদ্যে ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হবে, তবে কত টাকা বাড়ানো হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। আগামী মে মাসের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সভায় নতুন অর্থবছরে খাতভিত্তিক ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হবে। তবে মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘবে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হবে। সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতেও যে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছিল, তা থেকে বেশির ভাগ দেশ বেরিয়ে এলেও বাংলাদেশে এখনো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা ভোক্তা মূল্যসূচক বা সহজে বলতে গেলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এটি কমে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি এখনো সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি। আইএমএফের ঋণের শর্তের একটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমানো। তার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মুদ্রানীতিতে কঠোরতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাজারে টাকার সরবরাহ কমাতে নীতি-সুদ হার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, খাদ্যে ভর্তুকি দিতেই হবে। কারণ এটি সরাসরি নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে চলে যায়। তবে অন্যান্য যেসব ভর্তুকি আছে সেগুলো বের হওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সার, ডিজেলে ভর্তুকি তুলে দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, নগদ সহায়তা দিলে সেটি সরাসরি ভুক্তভোগী পেয়ে থাকেন। খাদ্যে ভর্তুকি দেওয়ার চেয়ে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ভালো। কেননা আমাদের ব্যবস্থাপনায় গলদ রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি খাতের ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পর প্রণোদনা বাবদ বাজেটে বরাদ্দ রাখা যাবে না।

এদিকে গত মঙ্গলবার ১৯ মার্চ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭৬২ টন খাদ্য মজুদ ছিল। এর মধ্যে ১২ লাখ ৫ হাজার ৫৪৮ টন চাল, ২ লাখ ৬০ হাজার ৭২৯ টন গম এবং ১১ হাজার ২৬৩ টন ধান মজুদ রয়েছে।

এদিকে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম ও এক লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজির আওতায় ইতোমধ্যে ৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সম্পাদিত চুক্তির বিপরীতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৭ টন গম আমদানি হয়েছে। চুক্তির অবশিষ্ট গমের খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

 

ট্যাগ: