নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন এক ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে টিয়ারুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি বুধবার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে নালিশ করেছেন।
টিয়ারুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে। তিনি গোলাপফুল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক। গোদাগাড়ীতে সম্প্রতি খাস-পুকুর ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অংশ নিতে হলে এই সমবায় সমিতির একটি প্রত্যয়নপত্র দরকার যা দিয়ে থাকেন ইউএনও। সেটি চাইতে গিয়েই দুর্ব্যবহারের শিকার হন টিয়ারুল ইসলাম ও তার আত্মীয় মো. সুমন। সুমনের বাড়ি পৌরসভার বারুইপাড়া মহল্লায়।

সুমন জানান, তাদের সমিতির নামে জলমহালের সার্টিফিকেট মামলা থাকলে তারা ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। সার্টিফিকেট মামলা আছে কি নেই সে বিষয়ে আগেই প্রত্যয়ন নিতে হয় ইউএনওর কাছ থেকে। সম্প্রতি খাস পুকুর ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তারা প্রত্যয়নপত্রের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের ১৩ দিন পর গত বৃহস্পতিবার তারা সার্টিফিকেট সহকারী মিলনের কাছে গেলে তিনি জানান, আবেদনটা মাত্র পেয়েছেন। ইউএনও সমিতির অডিট বই না দেখে প্রত্যয়ন দেবেন না। এ কথা শুনে বৃহস্পতিবারই অডিট বই জমা দিয়ে আসেন।
এরপর সেদিনই সন্ধ্যার পর ইউএনওর স্বাক্ষর নিয়ে প্রত্যয়ন দিতে চান মিলন। পরে সেদিন আর তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। এরপর গত রোববার ও সোমবার গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তাকে অফিসে পাওয়া গেলে সুমন প্রত্যয়ন চান। এ সময় সার্টিফিকেট সহকারী জানান, সেটি এখনও হয়নি। এভাবে প্রত্যয়ন না দিয়ে হয়রানি করলে তারা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে তার কক্ষে ঢোকেন।
সুমন বলেন, ‘স্যার, আমরা টেন্ডার ড্রপ করব। এটা না পেলে তো হবে না। চর থেকে লোকজন এসে ঘুরছে। টেন্ডার ড্রপ করতে না পারলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ এ সময় ইউএনও বলেন, ‘ঠিক আছে প্রত্যয়ন দিয়ে দিবে।’ এ সময় সুমন বলেন, ‘স্যার, আপনি এর আগেও বলেছেন দেবে, কিন্তু দিচ্ছে না।’ এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইউএনও। বলেন, ‘আপনি অনুমতি না নিয়ে আমার অফিসে ঢুকেছেন। আপনি বের হন।’ এরপর সুমন অফিস থেকে বেরিয়ে যান।
সুমন বলেন, ‘একটা সরকারি অফিস থেকে কর্মকর্তা কাউকে এভাবে বের করে দেবেন সেটা তো হয় না। তিনি কী কারণে প্রত্যয়ন দিতে চাচ্ছেন না সেটাই চিন্তার বিষয়। এটা না দিলে আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারব না। বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতে এটা করা হতে পারে।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘যিনি অভিযোগ করেছেন তিনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমার এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না। অভিযোগটা দেখে বলতে পারব।’









