ধর্ম

অন্যকে অভিসম্পাত নিজের ধ্বংস ডেকে আনে

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান, যেখানে মানুষের প্রতিটি আচরণ ও কথাবার্তার শুদ্ধতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আমাদের জিহ্বা আল্লাহর এক অমূল্য নিয়ামত, যা দ্বারা আমরা তাঁর স্মরণ করতে পারি, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারি, মানুষকে সৎকর্মে আহ্বান করতে পারি। কিন্তু এই জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ বিপদের কারণ। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের সতর্ক করে বলেছেন—

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ يَنْبَغِي لِصِدِّيقٍ أَنْ يَكُونَ لَعَّانًا ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন সিদ্দীকের পক্ষে অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৭)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এ হাদিস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা দেয়। একজন সত্যিকার ঈমানদার, যাকে “সিদ্দীক” বলা হয়, সে কখনো অভিসম্পাতকারী হতে পারে না। কারণ—

অভিসম্পাত মুমিনের মর্যাদার পরিপন্থী

একজন মুমিনের জিহ্বা থেকে সর্বদা কল্যাণ, দয়া, নেক উপদেশ ও দোয়া বের হওয়া উচিত। অভিসম্পাত হলো অন্যের জন্য ক্ষতি কামনা করা, যা মুমিনের করুণাময় স্বভাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিসম্পাতে রহমতের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেছেন : ‘মুমিন অভিশাপকারী, অশ্লীল ভাষী বা অশুভ কামনাকারী হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)। অভিসম্পাত মানুষের হৃদয়কে কঠোর করে দেয় এবং তার আমল থেকে রহমতের আলো দূরে সরিয়ে দেয়।

অভিসম্পাতকারীর নিজের আমলের ক্ষতি হয়

হাদিস শরিফে এসেছে—যখন মানুষ কাউকে অভিসম্পাত করে, তখন সেই অভিসম্পাত যদি প্রাপকের উপযুক্ত না হয়, তবে তা অভিসম্পাতকারীর নিজের ওপরই ফিরে আসে।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৬)। অর্থাৎ অভিশাপ অন্যের ক্ষতি না করলেও নিজের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে।
মুমিনের দায়িত্ব হলো কল্যাণ কামনা

একজন প্রকৃত মুমিনের উচিত সব সময় অন্যের হেদায়াত, মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা। শত্রুর প্রতিও দোয়া করা উচিত যে আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করুন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘তোমরা অভিশাপ দিয়ো না, বরং কল্যাণ কামনা করো।

’
হাদিস থেকে শিক্ষা

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি—একজন সত্যিকার ঈমানদারকে আল্লাহর রহমতের ধারক-বাহক হতে হবে, অভিসম্পাতের নয়। তার জিহ্বা যেন মানুষের প্রতি দোয়া, দয়া, সহানুভূতি ও উত্তম পরামর্শ প্রদানেই ব্যয় হয়।