শাহিনুল ইসলাম আশিক:
‘বাবা আমার মোবাইলে এক টাকাও নাই। বাবা ১০টা টাকা দাও না। আমি স্কুল যাব টাকা দিয়ে যাও। সাক্ষরের বেশি টাকার চাহিদা নাই। আমি যে টাকা দেব সেই টাকায় নিত সে। তার বেশি এক টাকাও চাইতো না। স্কুলে যাওয়ার সময় ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিতাম। আর কথা বলতো না। যদি বলি আর লাগবে, তো বলতো- ‘না’। এখন কে বলবে বাবা ১০ টাকা দাও না!’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র নিহত ফারহান খন্দকার সাক্ষরের বাবা মোস্তফা কামাল বাবলু অবেগজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সাক্ষরের মাকে কোনভাবেই মানাতে পারছি না। সারাক্ষণ আমার ছোট ছেলে রণককে নিয়ে কান্নাকাটি করছে। ছেলেটাও ভাই ভাই করে কান্নাকাটি করেছে। আমরা কেউ কখনো ভাবতে পারি নি যে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। কিছুই বুঝতে পারছি না। কি থেকে কি হয়ে গেলো।’

মোস্তফা কামাল বাবলু বলেন, ‘বগুড়া শান্তাহারের জুগিপুকুর এলাকায় আমাদের বাড়ি। আমার বাবা সাক্ষরের দাদা আদুস সাত্তার রাজশাহী জুট মিলে চাকরি করতেন। তার সুবাদে আমাদের রাজশাহীতে আসা। বাবা চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। পরে আমি চাকরি পাই। আমরা জুট মিলের মহানন্দা নামের একটি কোয়ার্টারে বসবাস করি।।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলেকে ৬ থেকে ৭জন অনেক মারধর করেছে। সেই মারধর সহ্য করতে না পেরে সে মারা গেলো। আমি ঘটনার পরের দিন মতিহার থানায় একটি মামলা করেছিলাম। সেখানে অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭জনকে আসামি করা হয়।’
এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) সাক্ষর মারা যায়। পরে তার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হন্তান্তর করা হয়। সেই দিন তার জুটমিলের মাঠে প্রথম জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ি বগুড়া শান্তাহারের জুগিপুকুর এলাকায় নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, ঘটনার পরের দিন সাক্ষরের বাবা মোস্তফা কামাল অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এই মামলায় নগরীর ধরমপুর এলাকার সওদাগর আলীর ছেলে জাহিদ হাসান হিরো নামের একজনকে আটক করা হয়া।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একদল দুর্বৃত্ত সাক্ষরকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন তার সহপাঠি তারিক জামিল।
দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের দুইজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে সাক্ষরের অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। এরপর থেকে সাক্ষর সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাক্ষর শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মারা যান।
স/আ









